প্লিজ, মৃত্যুর এই কাফেলা থামান

0
195

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা উত্তম কুমারের স্বজনদের আহাজারি মৃত্যুর মিছিল চলছে। মারা যাচ্ছে মানুষ। প্রতিদিন শিরোনাম। আন্দোলন, প্রতিবাদ। নানা আওয়াজ। কিন্তু কিছুতেই ছোট হচ্ছে না লাশের সারি। সড়কে হত্যা থামছেই না। গতকাল সাভারে ট্রাকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে এক প্রকৌশলীসহ নিহত হয়েছে তিন জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো দুইজন।

আহতদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়াপুর এসএন সিএনজি পাম্পের সামনে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার লিমিটেডের প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম (৫৪), নুরুন্নবি (৩৮) এবং দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপের চালক খলিলুর রহমান (৫৪)।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে মীর আকতার গ্রুপের একটি হাইলাইটস ডাবল পিকআপে করে নিহতরা সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। একপর্যায়ে পিকআপটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়াপুর এসএন সিএনজি পাম্পের সামনে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এ সময় পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই এক প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ নিহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের স্বজনসহ উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সেনবাগে মা-ছেলে সহ নিহত ৩

সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান,: নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথায় যাত্রীবাহী সিএনজি ও মালবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মা ছেলেসহ ৩ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে। সোমবার সকাল পৌনে ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন- সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের খান পাড়া ইমান আলী খানের স্ত্রী ফিরোজা খানম রত্না (৬০) তার ছেলে কুয়েত প্রবাসী মোহন খান (৩৫) ও সিএনজি চালক দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের আবু তাহের (২৫)। গুরুতর আহতরা হচ্ছেন- নিহত মোহন খানের স্ত্রী বিবি মর্জিনা আক্তার (৩০), তার ছেলে মিরান খান (৭) ও পিকআপ যাত্রী ডমুরুয়া ইউপি সাতবাড়ীয়া গ্রামের সফি উল্যার পুত্র মো. মাসুদ (৩৫) পিকআপ চালক ও হেলপার। এদের মধ্যে শিশু মিরান ও তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সেনবাগ থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ নিহত আহতদের উদ্ধার করেন।

সেনবাগ থানার ওসি মো. মঈন উদ্দিন আহমেদ জানান, দুর্ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

রাজধানীর মিরপুরে রাইনখোলায় ঈগল পরিবহনের বাসেরচাপায় পুলিশের এসআই (উপপরিদর্শক) উত্তম কুমার সরকার নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বাসটির চালক মো. বেলাল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল চালক বেলালকে আদালতে হাজির করলে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার এসআই খোকন চন্দ্র দেবনাথ গতকাল আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তবে, চালক বেলালের পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানি করেননি।  উৎসঃ মানবজমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here