ফল ব্যবসায়ী থেকে ‘সেনা-সার্জেন্ট’ মনির

0
243

নাটোরের মনির হোসেন বাবু (৪৫) পেশায় ছিলেন একজন ফল ব্যবসায়ী। নিজ এলাকা লালপুরের দুরদরিয়া গ্রামে শুরু হয় তার ফলের ব্যবসা। হাঁক ছেড়ে গ্রামে গ্রামে রকমারি ফল বিক্রি করতেন তিনি।

তবে আবুল হোসেনের ছেলে মনিরের স্বপ্ন অনেক বড়। লাখ লাখ টাকার মালিক বনে যাওয়ার ইচ্ছে তার। তাই ফল বিক্রি করতে একসময় গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শহরে। পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা কামানোর ফন্দি এঁটে সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করতে থাকেন সবার কাছে। মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মাতে বানিয়ে ফেলেন সেনাসার্জেন্টের পোশাক। তৈরি করেন পরিচয়পত্রও।

এরপর সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। আর এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকার মালিক বনে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে নেন মনির।

মনির একে একে তিনটি বিয়েও করেন। প্রথম বিয়ে নিজ গ্রামেই। কিন্তু সেই বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। এরপর বিয়ে করেন আরও দু’টি।

কিন্তু বিধি বাম! সর্বশেষ স্ত্রী তার প্রতারণার ফাঁদ ধরে ফেলেন। স্বামীর প্রতারণার বিষয়টি জানিয়ে বগুড়ার শেরপুর থানায় করেন লিখিত অভিযোগ। পরে তৃতীয় স্ত্রীর অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ভুয়া ‘সেনাসার্জেন্ট’ মনির হোসেন বাবু।

শনিবার দুপুরে প্রতারক স্বামী মনির হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে স্ত্রী বাদি হয়ে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে রাজাপুর গ্রামের গোলাম হোসেনের অনার্স পড়ুয়া মেয়ে উম্মে হাফসা খাতুন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এর আগে স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার দিনগত রাতে উম্মে হাফসা খাতুনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মনিরকে আটক করে পুলিশ।

মনির হোসেন বাবুর স্ত্রী উম্মে হাফসা খাতুন জানান, সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পরিচয়ে প্রায় বছরখানেক আগে বিয়ে হয় তাদের দু’জনের। পরে তার ভাই তারিফ হোসেনকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা নেন মনির। একইভাবে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে স্বামী মনির হোসেন তাকে ঠিকমত ভরণ পোষণ দিতে চান না। তখন তার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। স্বামীর অজান্তে নানাভাবে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে স্বামীর প্রতারণার ব্যাপারটি প্রকাশ পেয়ে যায় তার কাছে।

উম্মে হাফসা খাতুন জানান, প্রথমে নিজ গ্রামে একই পরিচয়ে হাসনা খাতুন নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু নানা কারণে সেই বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তীতে সেনাসার্জেন্ট পরিচয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বি-ব্লক এলাকায় রাজিয়া খাতুন নামের আরেক মেয়েকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনিও মনিরের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ তার।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুয়া সেনাসার্জেন্ট মনির হোসেন বাবু একজন ভয়ঙ্কর প্রতারক। তারই স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মনির প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।-বাংলানিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here