ফুটবলের জন্য সর্বোচ্চটাই করেছি, বললেন সালাউদ্দিন

0
140

অসুস্থ স্ত্রী হাসপাতালে। তাঁর চিকিৎসায় সময় দিতে হচ্ছে। তার ওপর পরশু রাতে নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে ঘরের মাঠে সাফ সুজুকি কাপের সেমিফাইনালের আগেই বিদায় স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের। এই দুঃখ কাজী সালাউদ্দিনকে ভীষণভাবে পোড়াচ্ছে। দুঃখের যেখান থেকে সূচনা, গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের শিশুতোষ ভুলে প্রথম গোলের পরই রাগে-ক্ষোভে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যান বাফুফে সভাপতি।

সাফেরও সভাপতি তিনি। নিজেদের দেশে টুর্নামেন্ট, স্বপ্ন দেখেছিলেন ২০০৩ সাফে শিরোপা জয়ের পুনরাবৃত্তির। উল্টো আরেকটি দুঃখের দিন যোগ হয়ে গেল জীবনে। কাল প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমার জীবনে আগে তিনটি দুঃখের দিন ছিল। প্রথমটি ১৯৭৫ সালে বন্ধু শেখ কামালসহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড। এরপর আমার বাবা ও মায়ের মৃত্যু। চতুর্থ দুঃখের দিন হলো, এভাবে নিজেদের মাঠে ভালো অবস্থানে থেকেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নেওয়া।’

সালাউদ্দিন দৃশ্যটা চোখ থেকে সরাতেই পারছেন না। সোহেলের বাঁয়ে, ডানে কেউ নেই। সামনেও কিছুটা ফাঁকা। এই অবস্থায় দুই হাতের মাঝখান দিয়ে এভাবে গোলরক্ষকের গোল খাওয়া মানতে পারছেন না সালাউদ্দিন, ‘গোলরক্ষক ওভাবে বল ছাড়লে কিছু আর বলার থাকে না। আমি দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করি না কখনো। তারপরও কারও না কারও গাফিলতিতে এমন ফল। এটা দুঃখজনক।’

সাফের প্রস্তুতির জন্য জাতীয় দলকে দুবার কাতার, একবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছেন ক্যাম্প করতে। আগে কখনো এমনটা হয়নি। এ কারণেই সালাউদ্দিনের হতাশাটা আরও বেশি। আগের বাফুফে সভাপতিরা জাতীয় দলের জন্য কী করেছেন, আর তিনি কী করেছেন, সেই উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেই আমি সর্বোচ্চটাই করেছি।’

ফুটবলে ব্রাজিল, জার্মানিও হারে। কিন্তু এভাবে হারে না বলে দুঃখ করলেন তিনি। পরশুর ম্যাচ নিয়ে বললেন, ‘নিজে কোচ ছিলাম বলে দল হারলে কিছু বলি না। কিন্তু এই গোল আর এই হার আমি সারা জীবন ক্ষমা করতে পারব না। কারণ হলো, মাঠে দর্শক এসেছে। সবাই উপভোগ করেছে। সেটাকে নিজেদের গাফিলতিতে কেউ শেষ করে দেবে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’

সাফ থেকে এভাবে বিদায় না নিলে গত কিছুদিন ফুটবলে বয়ে যাওয়া সুবাতাসের পালে জোর হাওয়া লাগত। উল্টো যা হলো, তাতে সালাউদ্দিনের মুখে নিরাশার সুর, ‘এখন আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।’

– প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here