বগুড়া-৬ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প জোবাইদা?

0
178

বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে বগুড়া-৬ (সদর) জিয়া পরিবারের জন্য সংরক্ষিত আসন হিসেবেই পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত টানা চারবার এখানে সংসদ সদস্য হয়েছেন দলের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রার্থীতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির নেতা-কর্মীরা চাইছেন, তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমান কিংবা জিয়া পরিবারের অন্য কেউকে এ আসনে প্রার্থী হোক।

১৯৭৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব কটি জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জিতেছে বিএনপি। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য হয়েছেন খালেদা জিয়া। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে অন্যরা বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট ভোটের ৭১ শতাংশ পেয়ে জয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে পেয়েছিলেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৫০ ভোট, যা মোট ভোটের ৭৮ শতাংশ।

বিএনপির নেতরা বলছেন, খালেদা জিয়া বা তাঁর ছেলে তারেক রহমানই আগামী নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী হবেন। আইনগত কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রার্থী হতে না পারলে তারাই ঠিক করবেন বিকল্প প্রার্থী কে হবেন। তবে নেতা-কর্মীরা জিয়া পরিবারের বিকল্প হিসেবে অন্য কাউকে ভাবছেন না। খালেদা বা তারেকের বিকল্প প্রয়োজন হলে এখানে তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমান প্রার্থী হবেন। বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি আলী আজগর তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা এখনো আশাবাদী, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁদের নির্বাচনের বাইরে রাখার সরকারি কূটকৌশল যদি সফল হয়ই, তবে তাঁরা তারেকপতœী জোবাইদা রহমানকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

জিয়া পরিবারের কেউ প্রার্থী না হলে এ আসনে প্রার্থীসংকটের আশঙ্কা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম কিংবা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন এখানে মনোনয়ন চাইবেন কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। সাইফুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া কোনো নির্বাচনের কথা ভাবছি না আমরা। জিয়া পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন, এটাই শেষ কথা। জয়নাল আবেদীন বলেন, আগামী নির্বাচনে ম্যাডামই প্রার্থী হবেন বলে আশাবাদী আমরা। তা না হলে জিয়া পরিবারের হয়ে কে লড়বেন, সেই সিদ্ধান্ত ও নেবেন ম্যাডাম ও তারেক রহমান। আদালতের উপর নির্ভর করছে এ আসনে খালেদা জিয়া প্রার্থী হতে পারবেন কিনা।

জোবাইদা রহমানের প্রার্থী বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু সোমবার আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, আমরা আগে চাই ম্যাডামের মুক্তি, এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের কাছে এ রকম কোন প্রস্তাব এখনও আসে নাই। যদি এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীরা আমাদের কাছে প্রস্তাব করেন তাহলে আমরা বিবেচনা করতে পারি। তাছাড়া আমাদের হাইকমান্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন।

জোবাইদা রহমানের প্রার্থী বিষয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম) গোলাম আকবর খন্দকারের কাছে সোমবার জানতে চাইলে তিনি আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, আমরা আগে চাই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। পরে তিনি যদি ঐ আসন থেকে নির্বাচন না করেন তাহলে পরে দেখা যাবে। তাছাড়া জোবাইদা রহমানও ভালো প্রার্থী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here