বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরাসহ ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশির নাম

0
217

ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীরা ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীসহ মোট ৫৭ বাংলাদেশির নাম রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ওয়ান্টেড তালিকায়। এদের সকলের বিরুদ্ধে খুন, হত্যা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের চাওয়া সহযোগিতার কারণে এসব বাংলাদেশি ব্যক্তির নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

‘ইন্টারপোল’ জাতিসংঘ-এর পর দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা। আন্তর্জাতিক পুলিশকে সহায়তার জন্য ১৯২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ কমিশন নামে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে বর্তমানের নামে পরিবর্তিত হয়। পৃথিবীর ১৯২টি দেশ এর সদস্য। সংস্থাটি তাদের তালিকায় থাকা ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান জানার চেষ্টা করে। এরপর তাদেরকে স্থানীয় আইনে গ্রেফতার করে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারি করা বাংলাদেশিরা হলেন, রফিকুল ইসলাম, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, আমিনুর রসুল, হারিস আহমেদ, জাফর আহমেদ, আবদুল জব্বার, নবী হোসাইন, জিসান, তৌফিক আলম, মিন্টু, শাহাদাত হোসাইন, আতাউর রহমান, নাসির উদ্দিন রতন, চাঁন মিয়া, প্রশান্ত সরদার, সুলতান সাজিদ, হারুন শেখ, মনোতোষ বসাক, আমিনুর রহমান, গোলাম ফারুক অভি, রাতুল আহমেদ বাবু, হাসন আলী ওরফে সৈয়দ মো. হাছন, সৈয়দ মোহাম্মদ হোসাইন ওরফে হোসেন, জাহিদ হোসেন খোকন, আবদুল হারিস চৌধুরী, আবদুল জব্বার, আহমেদ কবির ওরফে সুরত আলম, রফিকুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন খান, হাসেম কিসমত, শরিফুল হক ডালিম, মোল্লা মাসুদ, মো. ইউসুফ, মো. নাঈম খান ইকরাম, মকবুল হোসাইন, সালাহউদ্দিন মিন্টু, খন্দকার আবদুর রশিদ, মঈন উদ্দিন চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, মাওলানা মো. তাজউদ্দিন মিয়া, আশরাফুজ্জামান খান, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ চৌধুরী আতাউর রহমান, ত্রিমতি সুব্রত বাইন, আবুল কালাম আজাদ (বাচ্চু রাজাকার), সৈয়দ, আমান উল্লাহ শফিক, নুরুল দিপু, আহমেদ মঞ্জু, চন্দন কুমার রায়, এএম রাশেদ চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন খান, নাজমুল আনসার, আবদুল মাজেদ, আহমেদ শারফুল হোসাইন, কালা জাহাঙ্গীর ওরফে ফেরদৌস, খন্দকার তানভীর ইসলাম জয়, শামীম আহমেদ।

এসব ব্যক্তির কোনো তথ্য পেলে স্থানীয় পুলিশ বা ইন্টারপোলে জানানোর আহ্বান করা হয়েছে। তবে রেড অ্যালার্ট বা ওয়ান্টেড তালিকা ইন্টারপোলের কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। তাছাড়া আসামিকে গ্রেফতারে কোনো দেশকে চাপও দিতে পারে না ইন্টারপোল। তারা শুধু নির্দিষ্ট তথ্যগুলো সদস্যদেশগুলোকে জানায় এবং আসামি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টে থাকা এবিএম নুর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, খন্দকার আবদুর রশিদ, আবদুল মাজেদ, রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। মোসলেহ উদ্দিন জার্মানিতে, নূর চৌধুরী কানাডায়, রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে, আবদুর রশিদ ও মাজেদ পাকিস্তানে এবং ডালিম লিবিয়ায় রয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তথ্য রয়েছে। আর মাওলানা তাজউদ্দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীর মধ্যে রেড অ্যালার্টে রয়েছে ফরিদপুরের আবুল কালাম আজাদ, জাহিদ হোসেন, গোপালগঞ্জের আশরাফুজ্জামান খান, ফেনীর মইনউদ্দিন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৈয়দ মো. হাসান আলী ও সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন এবং মঠবাড়িয়ার আবদুল জব্বারের নাম। রয়েছে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর নামও। এছাড়া মডেল তিন্নি হত্যা মামলার আসামি সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভির নামও রেড নোটিশে ঝুলছে। সূত্র: যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here