বন্ধু যখন শত্রু

0
261

কসময় ডেনমার্কে খেলেছেন একই লিগে। একই লিগে কী, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই দলের হয়ে লড়াইও করেছেন তারা। তখন থেকেই তাদের বন্ধুত্ব। কিন্তু পেশাদারি ফুটবলের মাঠের লড়াইয়ে এই বন্ধুত্ব আর থাকছে না, বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মুখোমুখি লড়াইয়ে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ডেনমার্কের নাগরিক। ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুটাও তার ইউরোপের দেশটিতে। সেখানে খেলার সময়ই তার পরিচয় পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইউসুফ ইজাজ বাট ও ফরোয়ার্ড হাসান নাভিদ বশিরের সঙ্গে। ডেনমার্কের লিগে প্রতিপক্ষ হিসেবে যেমন খেলেছেন তারা, তেমনি একই ক্লাবের জার্সি গায়েও জড়িয়েছেন তারা।

পেশাদারি ফুটবলে পা রাখেন জামাল ডেনিশ ক্লাব হেলেরাপ আইকে দিয়ে। ২০০৯ সালে অভিষেক হওয়ার পর এই ক্লাবে খেলেছেন তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত। এই সময়টাতেই তিনি সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন ইউসুফ বাট ও নাভিদ বশিরকে।

পরে ক্লাব আলাদা হয়ে গেলেও তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরেনি। জামাল বাংলাদেশে চলে এলেও তাদের যোগাযোগ হয় নিয়মিত। যদিও খেলার মাঠে এই বন্ধুত্বের কোনও জায়গা নেই বলেই  জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বন্ধুত্বের সুখস্মৃতি রোমন্থনের সঙ্গে নিজের কাজের ব্যাপারে পুরোপুরি সতর্ক তিনি, ‘আমি ওদের (বাট ও বশির) ভালো করে চিনি। একটা সময় তাদের সঙ্গে লিগে খেলেছি, ওরা আমার বন্ধুও। তবে মাঠের খেলাতে এর প্রভাব পড়বে না। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব।’

পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইউসুফ বাট বন্ধুত্ব নিয়ে বললেন, ‘আমরা দুজন একসঙ্গে দ্বিতীয় বিভাগের দুই ক্লাবে খেলেছি। জামালের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার।’

ফরোয়ার্ড নাভিদ বশির ঢাকায় নেমেই কথা বলেছেন জামালের সঙ্গে। ২০১৩ সালের স্মৃতি রোমন্থন করলেন এই ফরোয়ার্ড, ‘জামালের সঙ্গে আমি খেলেছি এইচআইকে (হেলেরাপ আইকে) ক্লাবের হয়ে। ও ঢাকায় আসার আগে ওখানে দুজন খেলেছিলাম।।’ অবশ্য জাতীয় দলের জার্সিতে যে এবারই প্রথম জামালের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বশিরের, বিষয়টি তেমন নয়, ‘এই নিয়ে জাতীয় দলে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি তার। ২০১৩ সালে প্রথমবার আমি ২-১ গোলে জিতেছিলাম।’

এরপরই জামালকে জানালেন শুভকামনা, ‘ওর জন্য শুভকামনা রইল। খেলাধুলা কেমন চলছে, এইসব বিষয়ে কথা হয়েছে ওর সঙ্গে। ফোন-এসএমএসেও কথা হয়। ও খুব ভালো ছেলে।’ সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিলেন, ‘এটা ফুটবল, এখানে ৯০ মিনিটে আমরা দুজন দুজনার শত্রু। এরপর আবার আমরা বন্ধু।’

– বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here