বন্যার পর কেরালায় ‘ইঁদুর জ্বরের’ প্রাদুর্ভাব, ৫৪ জনের মুত্যু

0
217

য়াবহ বন্যার পানি কমতে শুরুর মধ্যে ভারতের কেরালা রাজ্যে এবার পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ইঁদুর জ্বর বা ল্যাপটোসপাইরোসিস রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কেরালার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত আগস্ট থেকে এই রোগে ৩৪ জনের মৃত্যুর কথা বললেও দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে এই সংখ্যা অন্তত ৫৪ জন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ১৭ দিনে রাজ্যটিতে ৫১৫ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হলেও ১৯৬ জনের ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আক্রান্ত ইঁদুরের দেহ থেকে ছড়ায় ল্যাপটোসপাইরোসিস ভাইরাস

ভারতের জনপ্রিয় পর্যটন রাজ্য কেরালায় গত আগস্ট মাসে ভয়াবহ বন্যায় ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু ছাড়াও দশ লাখ মানুষ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়। গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি ভিজায়ান রাজ্যের পার্লামেন্টে জানিয়েছেন বন্যার কবলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তিনশো কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এক হাজার কোটি রুপি চেয়েছে কেরালা রাজ্য সরকার। এর মধ্যেই ইঁদুর জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিল।

কেরালার স্বাস্থ্য বিভাগের মুখ্য সচিব রাজিব সদানন্দন বলেছেন, ‘এটা বন্যার সরাসরি প্রভাব। এই রোগের জীবাণু বহনকারী ব্যাকটেরিয়ার বাহক ইঁদুর। সেকারণে এখানে এর নাম ইঁদুর জ্বর। তবে ইঁদুর ছাড়াও গবাদি পশু বা কুকুরও এর বাহক হতে পারে। একবার এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে তাদের মূত্র এই ব্যাকটেরিয়া বহন করে। বন্যার সময়ে বিপুল সংখ্যক আক্রান্ত পশুর মৃত্যু হওয়ায় পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা এখন বেশি’।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ল্যাপটোসপাইরোসিস ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত প্রাণী যে মাটিতে মূত্র ত্যাগ করে সেখান থেকে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। মানুষের চামড়ায় থাকা সামান্য ক্ষত ওই মাটির সংস্পর্শে আসলে তা মানুষের শরীরের প্রবেশ করতে পারে। আক্রান্ত হলে মানুষের তীব্র মাথা ব্যাথা, পেশীতে ব্যাথা, জন্ডিস, ডায়রিয়া ও তীব্র জ্বর হতে পারে।

এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার খোজিকোদ জেলার ভাদাকারা এলাকায় মারা গেছেন ৩৮ বছর বয়সী উজেস। ওই এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। উজেসের এক আত্মীয় আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে কৃষি কাজ করা উজেস তীব্র জ্বর ও মাথা ব্যাথায় ভুগছিলেন। সম্ভবত তিনি মাঠে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কারণ ভারী বৃষ্টির মধ্যেও তিনি মাঠে কাজ করেছেন’।
বন্যার কেরালা জুড়ে চলছে জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজ

বন্যার পানি নামতে শুরু করার পর আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন লাখ লাখ মানুষ। রাজ্য জুড়ে চলছে বন্যার জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজ। বাতাস আর পানিবাহিত রোগের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। এমন সময়ে ল্যাপটোসপাইরোসিস ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

কেরালা রাজ্যের খোজিকোদ জেলার চিকিৎসক ভি জয়শ্রী বলেছেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা না গেলে এই রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষের মধ্যে ডক্সিসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিক বিতরণ করেছি। কিন্তু এখন আমরা জানতে পারছি অনেকেই ওই চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন’।

এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রাণীর মূত্র থাকতে পারে এমন মাটি ও পানি এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ল্যাপটোসপাইরোসিস ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। এছাড়া প্রতিরোধমূলক পোশাক ও জুতাও পরাও যেতে পারে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেকে শৈলজা গতকাল রবিবার মানুষদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আক্রান্ত এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার হাসপাতালগুলো মানুষের মধ্যে ডক্সিসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিক বিতরণ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কেরালার বন্যাকে ‘মারাত্মক ধরণের বিপর্যয়’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। তাদের হিসাবে এর কারণে এখন পর্যন্ত ৮৪০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সূত্র ; বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here