বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পিটার ওবরানের শঙ্কা

0
279

জাতিসংঘ এবং এর গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গতকাল সোমবার এ যাবতকালের মধ্যে সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আগামী ১২ বছরের মধ্যে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি বৃদ্ধি ঠেকানো না গেলে ভয়াবহ বিপদে পড়বে বিশ্ব। এ রিপোর্ট প্রকাশের পর বিশ্বখ্যাত জলবায়ু সাংবাদিক পিটার ওবরান বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে নিজ শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে এ পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের মানুষের প্রস্তুতি নিয়ে তার মাঝে প্রকাশ পেয়েছে উচ্ছাস। গার্ডিয়ান

য়ানবিখ্যাত ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ওবরান এ বছরের শুরুতে তার বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পিটার ওবরান জানান, তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মদ্যে নৌকায় করে ঘুরেছেন। এ সময় জেলেরা তাকে জানান উঁচু জোয়ার মোকাবেলার জন্য তাদের বাড়িকে পিটন দিয়ে তুলে ধরার একটি নিজস্ব পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন। তবে পিটার দু:খের সাথে বলেছেন এই প্রতিভাবান মানুষগুলো কোনভাবেই নিজেদের ফসল রক্ষা করতে পারছেন না।

ওবরান জানিয়েছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমাগত লবনাক্ততা বাড়ছে। এই পানি পানে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে রক্তচাপ ও হৃদরোগ। এ বিষয়ে সুন্দরবনের গাবুরার অধিবাসি মোহাম্মদ আরাজাদ ওবরানকে বলেন, ‘আমি যখন তরুণ ছিলাম, বাংলাদেশ ছিলো ষড়ঋতুর দেশ। এখন ঋতু মাত্র ৩টি। গ্রীষ্ম, বর্ষা আর শীত। জোয়রের পানি আগের চাইতে বাড়ছে। আমার ছোটবেলার চাইতে এখন জোয়ারের পানি দুই ফুট বেশি ওঠে।’
তারই প্রতিবেশি সারা বানু জানিয়েছেন, র্ঊুশানের ঘূর্নিঝড়গুলো আগের চাইতে বেশি ভয়ংকর। তিনি বলেন, আগে যখন আকাশে মেঘ ধরতো, পৃষ্টিতে শুধই পরিস্কার পানি ঝড়তো। এখন বৃষ্টির পানিও ধোঁয়ার মতো।

আগে স্থানীয়রা খোলা গর্তে পানি সংরক্ষণ করতো। কিন্তু এখন তা দ্রুত বাস্পীভূত হয়ে যাচ্ছে বলে জানান ওবরান। তবুও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে তারা তাই পান করছেন। গ্রামের অধিবাসিরা নোনা পানি পান করায় উচ্চ রক্তচাপ আর হৃদরোগে ভুগছেন। তারা অল্পবয়সে মারা যাচ্ছেন। চেখের সমস্যা, চর্মরোগ, ডায়রিয়া আর কলেরা এ গ্রামগুলোতে খুব সাধারণ ঘটনা। অনেক নারী ওবরানকে জানান তারা নানা রকম যৌনরোগে ভুগছেন। গাবুরা গ্রামের অধিবাসিদের মিষ্টি পানি সংগ্রহে দুই কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। সে পানিও পুরোপুরি মিষ্টি নয়। এই আধা নোনা পানি পেতেও তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়।

তবে বাংলাদেশের মানুষের টিকে থাকার ক্ষমতায় মুগ্ধ ওবরান। জলবায়ু পরিবর্তনে এ মানুষগুলো তাদের পেশা বদলেছেন। নিজেদের বাড়ির পরিবর্তন এনেছেন। তাও নিজেদের উদ্যোগে, স্থানীয় প্রযুক্তিতে। মিষ্টি পানির অভাবে গ্রামে বৃদ্ধি পেয়েছে বাঘের আনাগোনা। তবুও তারা প্রকৃতির মাঝে টিকে রয়েছেন। স্থানীয় প্রযুক্তিতেই সংগ্রহ করে রাখছেন বৃষ্টির পানি। আগে তারা পশু পালন আর শষ্য উৎপাদন করতেন। ধরতেন মিষ্টি পানির মাছ। এ এলাকা থেকে এখন শোল-বোয়ালের মতো মাছ হারিয়েই গেছে। স্থানীয়রা পুরোপুরি নোনা পানির মাছের ওপর নির্ভরশীল। এসব মাছ আগে তারা খেতেন না। তবুও জলবায়ু পরিবতৃনের প্রথম ধাক্কার শিকার এই সম্ভাব্য জলবায়ু শরণার্থীরা টিকে আছেন এই পরিবর্তনের পরেও। যে পরিবর্তনে তাদের নূন্যতম হাত নেই। সম্পাদনা : ইকবাল খান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here