বাচ্চু আমার স্কুলফ্রেন্ড, তাকে নিয়ে গর্ব করি: হাছান মাহমুদ (ভিডিও)

0
189

ছোটবেলার সেই গিটার পাগল ছেলেটি বাংলাদেশের সেরা সঙ্গীত শিল্পী ও গিটারিস্ট হয়ে উঠবেন কে ভেবেছিলেন? আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে সেই সব দিনের স্মৃতিচারণ করলেন তাঁর স্কুল জীবনের বন্ধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।আজ রোববার ধানমন্ডির বাসায় আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলেবেলার বন্ধু হাছান মাহমুদ। ‘আইয়ুব বাচ্চু আর আমি একই সাথে পড়তাম। আমরা ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত একইসঙ্গে পড়েছি। বাচ্চুর সঙ্গীতের চর্চা শুরু ক্লাস নাইন-টেনে পড়াকালীন সময়ে। সেটা ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকের কথা। ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে আড্ডা দিতাম। তখন আজম খান, ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদ খুব জনপ্রিয়। বাচ্চু মাঝে মাঝে আড্ডায় দিতে আসতো। একদিন আমাদের বললো, গতকাল চট্টগ্রাম ক্লাবে আজম খানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছি। তখন আমরা তাকে খুব একটা পাত্তা দিতাম না। বলতাম এই গাল-গল্প মারিস না। সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিটার বাজাতো। এটা সত্যি।’- বলছিলেন হাছান মাহমুদ।আইয়ুব বাচ্চু প্রসঙ্গে এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘বাড়িতে রাত জেগে গিটার বাজিয়েছে। এসব অনেক কিছুই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতো। তাঁর বাবা খুব রাগী মানুষ ছিলেন (আমরা যতটুকু শুনেছি)। তাঁর বাবা এখনও বেঁচে আছেন। এই মিউজিকের জন্য তাঁর বাবার কাছে বহুবার বকাঝকা শুনতে হয়েছে। সবকিছুই আমরা যারা বন্ধু ছিলাম, বলতো। এমনকি ঘর থেকে বের করে দেয়ার মতো ঘটনাও আমরা শুনেছি। কিন্তু সে সঙ্গীত সাধনা চালিয়ে গেছে।’ বন্ধুত্বের এই পথে মাঝে কিছুটা বিরতি। এ ব্যাপারে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি স্কুলের শেষ দিকে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ম্যাট্রিক পাশ করার পরে প্রথম বর্ষেই আমি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হই। এরপর আমার গতিপথ ও তাঁর গতিপথ আলাদা হয়ে যায়। আমি রাজনীতিতে আর সে সঙ্গীতে মনোনিবেশ করে। সঙ্গীতে নিজেকে উজাড় করে দিলো। আর আমি রাজনীতির মাঠে। প্রথমে ফিলিংস নামে একটি ব্যান্ড করে। সেটি ১৯৭৮ সালের কথা। চট্টগ্রামে তাঁর বেশ নাম ডাক হয়। একটা সময় সোলস ব্যান্ডে যোগদান করে। সেখানেও অনেক কালজয়ী গানের সুর করে। পরবর্তীতে ঢাকায় নিজের ব্যান্ড দল এলআরবি নিয়ে সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।’খানিকটা থেমে আবারও শুরু করলেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এদিকে আমি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। পুরোদমে রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এই সময়টায় আমাদের খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। তবে মাঝে মাঝে আমাদের দেখা হতো। কথা হতো। আমরা সব বন্ধুরা বাচ্চুকে নিয়ে গর্ব করতাম।’তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আমি বিদেশে চলে যাই। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রীর বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হই। তখন সেও ধানমন্ডিতেই থাকতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হতো। কথা বলতাম। ফোনেও আমাদের কথা হয়েছে। আরটিভির একটি অনুষ্ঠানে আমাদের শেষবারের মতো দেখা হয়। সেদিন এক টেবিলে বসে খেয়েছি।’গান নিয়ে এমন পাগল মানুষটাকে নিয়ে কি ভাবতো তাঁর ছোটবেলার বন্ধুরা? হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের ছেলে বেলায় বা বাচ্চু যখন মিউজিক শুরু করে কখনও ভাবিনি ও (বাচ্চু) এতো বড় শিল্পী হবে। ওই সময় তাঁর কণ্ঠ বেশ মোটা ছিল। পরে তাঁর কালজয়ী গানগুলো শোনার পর ধারণাই পাল্টে যায়। কারণ আগের কণ্ঠের সঙ্গে কোনও মিল ছিল না। তাঁর গান শোনার সময় ফোনে বলতাম তোর গান শুনছি।’দুই বন্ধুই নিজেদের ভুবনে সেরা সময় পার করেছেন। সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করার সময় দেখা হলে কী করতেন? হাছান মাহমুদ বলেন, ধানমন্ডির একটি মঞ্চে আমরা একে অপরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছি। আমি বাচ্চুকে অন্যদিকে বাচ্চু আমাকে বড় করে দেখানোর প্রচেষ্টায় থাকতাম।’এই নেতা বলেন, ‘মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তরুণদের জন্য কাজ করে গেছেন আইয়ুব বাচ্চু। নিয়মিতভাবে মাদক বিরোধী কনসার্টে অংশ নিয়েছে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।’গায়ক আইয়ুব বাচ্চু সম্পর্কে কী বলবেন? তিনি বলেন, ‘সে শুধু বাংলাদেশ নয়, বাংলা গানের আইকন হয়ে উঠেছিল। খ্যাতির চুঁড়ায় থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যুতে দুই বাংলাসহ, চট্টগ্রাম তো অবশ্যই সমস্ত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ধরনের সঙ্গীত শিল্পী সব সময় জন্মায় না। সে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করেছে, বিশেষ করে ব্যান্ড সঙ্গীতকে। সে পরপারে চলে গেলেও যতদিন বাংলা গান থাকবে। ততদিন গানের মাধ্যমে বেঁচে থাকবে।’   – আর টিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here