বাল্যবন্ধুকে হত্যার কারণ ছিল মোবাইল ফোন

0
160

কুমিল্লায় আজিরুল ইসলাম জুয়েল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। বাল্যবন্ধু রাব্বীই জুয়েলের (২১) হত্যাকারী। টাকা ধার চেয়ে না পাওয়া ও পরবর্তীতে জুয়েলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিতেই পরিকল্পনা মাফিক তাকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে হত্যা করে সে। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় জুয়েলের মোবাইল ফোনটির অবস্থান নিশ্চিত করে। ধরা পড়ে রাব্বী। অভিযুক্ত রাব্বী হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, গোমতী চরের অরণ্যপুর থেকে জুয়েলের লাশ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছিল। জুয়েল চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার নাওপুরা গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। নিহত জুয়েলের পকেটে থাকা একটি মোবাইল সিমের সূত্র ধরে তার পরিচয় সনাক্ত করা হয়। টাকা ধার না দেওয়া এবং পরে মোবাইল লুট করে নেওয়ার জন্যই ২৯ সেপ্টেম্বর জুয়েলকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেছিল তারই বাল্যবন্ধু রাব্বী। রাব্বী একই গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে।

জুয়েল ও রাব্বী দুজনই পেশায় ইলেক্টেশিয়ান। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে নিহত জুয়েল জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারের একটি দোকানে কাজ নেয়। সেখানে গিয়ে রাব্বী কিছু টাকা ধার চায়। জুয়েল টাকা দিতে অপারগতা জানালে রাব্বী জুয়েলের মোবাইল ফোন লুটের পরিকল্পনা করে।

২৯ সেপ্টেম্বর বিকালে গোমতী নদীর অরণ্যপুর এলাকায় তারা দুইজন ঘুরতে বের হয়। সেখানে রাত হওয়ার পর অরণ্যপুর হরিনাচুর এলাকায় জুয়েলের মাথার পেছনে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রাব্বী। সে জুয়েলের হাত-পায়ের রগ কাটারও চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে গলা কেটে জুয়েলের মৃত্যু নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় সে।

বুধবার অভিযুক্ত রাব্বী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে কুমিল্লার ৩নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই পরিমল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলামের নির্দেশে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা মোবাইল সিমের সূত্র ধরেই মামলা তদন্ত শুরু হয়। এর মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতককে সনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার সদর উপজেলার নব গ্রামে অবস্থিত তারর ফুফুর বাড়ি থেকে ঘাতক রাব্বীকে গ্রেফতার করা হয়। সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও লুটকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here