বাস মালিকসহ ৩ জনকে আসামি করে মামলা

0
178

কুষ্টিয়ায় বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে শিশু আকিফার মৃত্যুর ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন গঞ্জেরাজ বাসের মালিক জয়নাল মিয়া, চালক খোকন ও সুপারভাইজার ইউনুচ মাষ্টার। এদের সকলের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়।

বৃহস্পতিবার রাতে নিহত আকিফার বারা হারুন উর রশিদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আকিফার বাবা মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ঘাতকদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের মামলা নিতে পুলিশের কাছে আবেদন করেন। তবে আইনপাশ না হওয়ায় পুলিশ মামলাটি ৩০৪ ধারায় হত্যাচেষ্টার মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন বলেন, শিশু আকিফার ঘটনায় ৩০৪(হত্যাচেষ্টা) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আসামি ধরতে অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আসামিরা গ্রেফতার হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আইন পাশ না হওয়ায় মামলাটি ৩০২(হত্যা) ধারায় নেয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টায় কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাসের বাড়ির সামনে আকিফার লাশবাহি এম্বুলেন্স এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতাড়না। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাসভারী হয়ে উঠে। কয়েক মিনিটেই পাল্টে যায় সব দৃশ্য। সবার চোখেই গড়িয়ে পড়ছে পানি। কেওই নিজেকে সামলাতে পারেননি। এ যেন এক হৃদয়বিদরক দৃশ্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত সাড়ে ৮টায় বাড়ির পাশেই চৌড়হাস ক্যানাল সংলগ্ন মসজিদে জানাজা শেষে ওই কবরস্থানেই আকিফাকে দাফন করা হয়।

দুইদিন যুদ্ধ করে বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যুর কাছে হেরে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়া এক বছরের শিশু আকিফা। ভিডিও ফুটেজে নিরাপদ মায়ের কোল থেকে আকিফার ছিটকে পড়ার দৃশ্য দেখেছে লাখো বাবা-মা। শিশুটির এমন করুন মৃত্যু নাড়া দিয়েছে দেশবাসীকে। ঘটনার পর থেকেই বাস চালককে আটকের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন স্বোচ্ছার হলেও স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেননি। তবে শিশুটি মারা গেলে টনক নড়ে প্রশাসনের। চালককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। সচেতন মহলের দাবি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে কোন মায়ের কোলই শিশুদের জন্য নিরাপদ থাকবে না।

গত মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চৌড়হাস মোড়ে দাড়িয়ে থাকা গঞ্জেরাজ নামের বাসের সামনে দিয়ে এক বছরের শিশু কন্যা আকিফাকে কোলে নিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন মা রিনা বেগম। হঠাৎ চালক ইচ্ছে করে বাসটি চালিয়ে রিনা বেগমকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মায়ের কোল থেকে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হয় শিশু আকিফা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাত্ব অবস্থায় মা মেয়েকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করে চিকিৎসকরা।

বুধবার সকাল ১১ টায় শিশু আকিফার অস্ত্রপচার করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুইদিন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলো এক বছরের শিশু আফিফা।

মামলার বাদী ও শিশুটির বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, আপনারা ভিডিওটি দেখলেই বুঝতে পারবেন, বেপরোয়া বাসচালক আমার স্ত্রীকে তিনবার ধাক্কা দিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাক্কায় আমার মেয়ে তার মায়ের কোল থেকে পড়ে যায়নি। তৃতীয়বার ধাক্কা মারার পর আমার মেয়ে তার মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায়। হারুন উর রশিদ এ ঘটনায় দায়ী বাসচালকের ফাঁসি দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here