বিএনপি কোমর ভাঙা রাজনৈতিক দল: কাদের

0
31

জনবিরোধী ভূমিকা বিএনপির আত্মবিশ্বাসে চির ধরিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নিজ দলের নেতারাই বলে বেড়াচ্ছেন যে, বিএনপি এখন একটি কোমর ভাঙা রাজনৈতিক দল। বিএনপি তাদের ভুল রাজনীতির খেসারত দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’  

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)  ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ওপর খাতওয়ারি আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, ‘বিএনপির জনবিরোধী ভূমিকা তাদের আত্মবিশ্বাসে চির ধরিয়েছে। তাই তারা বিরাজনীতিকরণের কথা বলে। শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থার কারণে এখন বিএনপির সিনিয়র নেতারাই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে না; বরং বারবার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ দেশ, মাটি ও মানুষের পাশে থেকে এ দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই জনগণের আস্থা নিয়ে এগিয়ে চলছে সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে। সরকারের এ অগ্রযাত্রায় বিরোধীদলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখতে চায়, পেতে চায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহযোগী শক্তি হিসেবে। কোনও রাজনৈতিক দলকে রাজনীতিবিমুখ করা সরকারের কাজ নয়।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘সরকার বিরাজনীতিকরণের পথে হাঁটছে এবং ষড়যন্ত্র করছে’ এমন মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিরাজনীতিকরণ তো নয়ই, বরং সরকার গণতন্ত্রের স্বার্থে আরও সক্ষম ও শক্তিশালী বিরোধী দল চায়।’

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে সরকার

অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা পুরোপুরি এখনও ফেরেনি। এ বিষয়টি পরিকল্পনায় অগ্রাধিকারে আসা জরুরি। সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা এখন আমাদের বড় দুর্ভাবনা এবং নিরাপদ সড়কের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহানগরীতে পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এফিশিয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের জন্যও সমন্বয় জরুরি।’

নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের সঙ্গে শুধু সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় জড়িত নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থা জড়িত উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা দলিলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সব অংশীজনের সমন্বয়ের বিষয়টি আনা যেতে পারে।’ তিনি বক্তব্যে সড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, গত ১২ বছরে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার সহাসড়ক ৪ লেনে উন্নিত হয়েছে। আরও প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার ৪ লেনে উন্নিতকরণের কাজ চলমান।

২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি মেট্রোরেল রুট নির্মাণের সময়বদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘একটি রুটের কাজ এগিয়ে চলছে, দুইটি রুটের ভৌত কাজ শিগগিরই শুরু হবে এবং বিআরটি প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।’

মন্ত্রী জানান, পদ্মা সেতুতে ইতোমধ্যে ৩৪টি স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়েছে, যার ৫.১ কিলোমিটার দৃশ্যমান। বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলেরও দুইটি টিউবের মধ্যে একটি টিউবের খনন কাজ শেষ হয়েছে। অপরদিকে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম ধাপের কাজ প্রায় ৫৬ ভাগ শেষ হয়েছে।

যোগাযোগ অবকাঠামো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে এবং এক্সটার্নাল ইকনোমি ক্রিয়েট করে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যোগাযোগ অবকাঠামো পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি শিল্প বিকাশে সহায়তা করে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে, হ্রাস করে দারিদ্র্যতা। বাড়ায় আর্থিক ক্ষমতা এবং জীবনমান।’

তিনি উন্নয়ন তথা সামগ্রিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করতে অপচয় রোধ এবং প্রকল্পের ওভারলেপিং রোধের পাশাপাশি মাল্টিমডাল ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য অর্জনের পথকে কুসুমাস্তীর্ণ করুক বলে আশাবাদ করেন ওবায়দুল কাদের। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here