বিএনপি ‘সংগঠিত’ হতে পারলে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন পড়তো না

0
167

র্নেল (অবঃ) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট। সাবেক এই যোগাযোগমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নেন। তিনি জিয়াউর রহমানের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তাকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাব প্রদান করা হয়।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির জাতীয় ঐক্য, নির্বাচনকালীন সরকারসহ সমসাময়িক নানা ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেন আশিতে পা দেওয়া অলি আহমেদ। রোববার তার মহাখালীর বাসায় সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক সাব্বির আহমেদ

আমাদের সময়.কম : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও জাতীয় ঐক্য গড়তে আগ্রহী বিএনপি। জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে আপনার মূল্যায়ন কি?

অলি আহমেদ : দেখুন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বড় একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব। তার ও আমার দৃষ্টিভঙ্গি এক নাও হতে পারে। হয়তো মির্জা ফখরুল মনে করছেন, ক্ষমতাসীন দলের বাইরে দলগুলোকে এক করতে পারলে সরকারবিরোধী আন্দোলন ত্বরান্বিত হবে। তবে এ ব্যাপারে আমার মত ভিন্ন। বিএনপি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের প্রতীক, গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র তাদের গণভিত্তি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই জনপ্রিয়তাকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে বিএনপির একার পক্ষেও আন্দোলনে সফল হওয়া সম্ভব। জাতীয় ঐক্যের খুব একটা প্রয়োজন হতো না। আমি যেহেতু এ প্রক্রিয়ায় জড়িত নই, এই ব্যাপারে আর বেশি মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

আমাদের সময়.কম : শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আপনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্যে আগ্রহী অধিকাংশ দলের জনসমর্থন নেই। এ মন্তব্যে নেতিবাচক বার্তা বহন করছে কি না?

অলি আহমেদ : আমি জানি না, বিএনপি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছে। তবে সঠিকভাবে করতে পারলে তার সুফলতা পাওয়া সম্ভব। মনে রাখতে হবে, ‘অতি লোভে তাঁতী নষ্ট’!

আমাদের সময়.কম : প্রধানমন্ত্রী শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতা আসতে পারব কি না- জানি না। হঠাৎই ক্ষমতায় থাকা নিয়ে সরকার প্রধানের এমন আশঙ্কা আপনি কিভাবে দেখছেন?

অলি আহমেদ : আগামী দিনে কে ক্ষমতায় সেটা তো কেউ জানে না এবং বিষয়টি কারো ওপর নির্ভরশীলও নয়। সৃষ্টিকর্তা নিজেই সেটা নির্ধারণ করবেন।

আমাদের সময়.কম : তবে শেষ সময়ে এসে সরকারের শঙ্কাটা কোথায়?

অলি আহমেদ : দেখুন, বিনা নেতৃত্বে তরুণ সমাজ রাস্তায় নেমে আসাটা সরকারের জন্য নিসন্দেহে অশনি সংকেত! আগামীতে সরকার এ ধাক্কা সামাল দিতে পারবে কি না- সন্দিহান। এছাড়া কোটা আন্দোলনকারীরাও ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে দুর্নীতি- লুটপাট তো চরমে। এসবেই সরকারের শনিভর।

আমাদের সময়.কম : আপনাদের জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বে কোনো সংকট দেখছেন কি না? বিএনপি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারছে না কেন?

অলি আহমেদ : আমি একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান হয়ে অন্য দল সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করা শুভনীয় হবে না। নিজের ছোট ঘর সামলাতেই আমার অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, অন্যের ঘর নিয়ে টানাটানির সময় কই?

আমাদের সময়.কম : ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ এ আপনার থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে- আপনি কি বলবেন?

অলি আহমেদ : এ খবর আমি নিজেও গণমাধ্যমে দেখেছি এবং আমাকে অনেকে বলেছেনও। তবে এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে সরকারের কারোর কোন যোগাযোগ কিংবা আলোচনা হয়নি।

আমাদের সময়.কম : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনার এবং এলডিপির ভাবনা জানতে চাই-

অলি আহমেদ : লিবারেল ডেমোক্রেকিট পার্টির (এলডিপি) লক্ষ্য হচ্ছে ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করা। জোটকে ঐক্যবদ্ধ করা ও বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করা। আলোচনা- সমালোচনার মাধ্যমে জোটের ভুল-ত্রুটি সংশোধন সম্ভব। এতে জোট মজবুত হয়। পোষা বিড়ালের মতো চুপচাপ বসে থাকা ভাল না। মতামত প্রকাশ করা বন্ধুত্বের লক্ষণ। এলডিপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ায় সিন্ধান্ত নিয়েছে। আগামীতে যা কিছু হবে- সবই জোটের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে।

আমাদের সময়.কম : ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।

অলি আহমেদ : আমাদের সময়.কমকেও ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here