বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষা এখন সময়ের দাবি

0
38

যুগের প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় আসতে হবে। এজন্য আগ্রহ, সক্ষমতা ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। নতুবা করোনার মতো নানা ধরনের সংকট দেখা দিলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এতে শিক্ষার্থীরা সেশনজটের কবলে পড়বেন। বর্তমানে বিশ্বের অনেক বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে? জাগোনিউজ

শিক্ষার্থীদের জীবনের মূল্যবান সময় রক্ষা করতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। মানসম্মত অনলাইন শিক্ষা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। এটি এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, এসবিপি, এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি।

শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা, আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কেউই ক্লাস মিস করেন না। উপাচার্য, ডিনরা যদি সময় মতো আসেন তাহলে তো কেউ দেরি করে আসবেন না

মেজর জেনারেল হাসান ১৯৬৬ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। বিইউপিতে যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পেশাদার কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ এবং ব্রাজিল স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ১০ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঢাকা সেনানিবাসের জিওসি, লজিস্টিক এরিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষায় নানা সমস্যা এবং এর সমাধান নিয়ে জাগো নিউজ’র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মুরাদ হুসাইন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ। স্বাভাবিকভাবে শিক্ষার কার্যক্রমও বন্ধ। ফলে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সংকটময় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিইউপি কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে?

প্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রয়োজনে ছুটির দিনগুলোতে বাড়তি ক্লাস নেয়া হবে, এজন্য সকলকে প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছে।

আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : সংকটময় এই পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, আমরা সবাই তা অবগত। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বড় ধরনের একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকার যখন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সেদিন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি ডিনস (বিভাগীয় প্রধান) কমিটির সভা ডাকি। এমন পরিস্থিতিতে বসে না থেকে কীভাবে শিক্ষার্থীদের একটি ক্লাসও মিস না করিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করি। আলোচনার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেই।

আমাদের ক্লাসরুমে আগেই এ ধরনের অবকাঠামো ছিল। যুগের প্রয়োজনে অনলাইন কার্যক্রম আমাদের হাতে নিতে হতো। করোনার মহামারি পরিস্থিতি আমাদের সে সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনের আওতাভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা (অনুষদের সদস্যরা) অনেক স্মার্ট; তারা প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন হওয়ায় দ্রুত এটিকে কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছি।

এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২১ সাল) থেকে প্রতিটি সেমিস্টারে একটি বিষয়ভিত্তিক কোর্স অনলাইনে সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়বে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। এজন্য আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শিক্ষর্থীকে কিস্তিতে ল্যাপটপ দেয়া হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে আমরা পিছিয়ে যেতে চাই না, যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো সেরা হওয়া, কারা পারছে না তা ভাবলে চলবে না

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ভালো অভিজ্ঞতাও হয়েছে। আমাদের বসে থাকলে হবে না, এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিক দিয়ে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিইউপির বিশেষ কোনো পার্থক্য আছে কিনা? থাকলে কোন কোন বিষয়ের ওপর আপনারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : বিইউপি ২০০৮ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রক বডি হিসেবে কাজ করে। ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক পর্যায়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।

আর্থিক সংকটে থাকা বিইউপির চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে ফ্রি ইন্টারনেট প্যাকেজ দেয়া হয়েছে

শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা, আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কেউই ক্লাস মিস করেন না। উপাচার্য, ডিনরা যদি সময় মতো আসেন তাহলে তো কেউ দেরি করে আসবেন না। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের বিলম্ব হয় না, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাই হলো আমাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অনলাইনে বিইউপির সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কীভাবে উপকৃত হচ্ছেন?

আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : বিইউপিতে শিক্ষার্থীদের ২১টি ক্লাব রয়েছে। মেধা ও মনন দিয়ে তারা নতুন নতুন উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন, এমনকি বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছেন। করোনা পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলোর কো-কারিকুলার (সহ-পাঠক্রম সংক্রান্ত) কার্যক্রম কিছুটা কমেছে। তারপরও নানা উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড, স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ (দক্ষতা উন্নয়ন) অনলাইনে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। একাডেমির বই ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন বই পড়াসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রয়োজনে ছুটির দিনগুলোতে বাড়তি ক্লাস নেয়া হবে, এজন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখনও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। এ কারণে দেশের উচ্চশিক্ষায় নতুন করে সেশনজট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদি সেশনজট হয় সেক্ষেত্রে পরিত্রাণের উপায় কী?

আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : অনেকেরই অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা নেই। তারা এখনও এর আওতায় আসতে পারেনি। বিইউপিতে এটি শুরু করতে আমাদেরও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে আমরা পিছিয়ে যেতে চাই না, যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো সেরা হওয়া, কারা পারছে না তা ভাবলে চলবে না। কারা পারছে সেটি দেখতে হবে।

অনলাইন ক্লাসের জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, ক্যামব্রিজসহ বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন ধরনের প্লাটফর্ম রয়েছে সেই তথ্য আমাদের সরবরাহ করছে। আমরা সেই আলোকে আমাদের অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করছি। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় কিছুটা সেশনজট বা সেশন-জ্যাম তৈরি হবে। তবে এতে শিক্ষার্থীদের অনেক বড় ক্ষতি হবে বলে মনে করি না।

১৯৭১ সালেও প্রায় এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, সে ক্ষতি কিন্তু আমরা পুষিয়ে নিয়েছি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জন্য তিন থেকে পাঁচ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক হলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সহজ হবে। যুগের প্রয়োজনে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রমের আওতায় আসতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কিন্তু সবার কাছে সহজলভ্য নয়। নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডেটা, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার সংকট তো রয়েছে। সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। বিইউপি কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করছে?

আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : অনলাইন কার্যক্রম শুরু করতে আমরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু ফ্যাকাল্টি শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি। করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে থাকা বিইউপির চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে ফ্রি ইন্টারনেট প্যাকেজ দেয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষক অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন তাদেরও পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিইউপি থেকে সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সার্বিকভাবে সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আমাদের শিক্ষকরা জুম, গুগল ক্লাসরুম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া শুরু করেন। এসব ক্লাস ধারণ করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় তা দেখতে পাচ্ছেন। প্রথম দিকে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে অনলাইন শ্রেণি পাঠদান সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে সাধারণ ক্লাসে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও অনলাইন ক্লাসে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ উপস্থিতি আমরা পাচ্ছি। শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক, ডিন সভা ও সিন্ডিকেট সভা— সবই অনলাইনে হচ্ছে।

স্নাতক প্রথম বর্ষের সেমিস্টার শেষ হলেও ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা অসম্পন্ন রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক ক্লাস শুরু হলে দুই সপ্তাহ আবারও রিভিউ করে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়ে সেমিস্টার শেষ করা হবে।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনলাইনে সেমিস্টার শেষ করে সনদ প্রদান করা হলে এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি-না?

আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : বিশ্বজুড়ে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে, সার্টিফিকেটও দেয়া হচ্ছে। সেসব সার্টিফিকেটের মান নিয়ে কিন্তু কোনো প্রশ্ন উঠছে না। আমরা কতটুকু কার্যকরভাবে করতে পারছি, সেটি বড় বিষয়। আমাদের অনেক প্রতিকূলতা রয়েছে। দেশের অনেক স্থানে পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক নেই, কারও কারও ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ডিভাইস না থাকায় প্রথমে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে এসব ডিভাইস পাঠানো, ফ্রিতে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেয়া, অনলাইনে রিডিং মেটার পাঠিয়ে আমাদের শিক্ষকরা নানা প্রচেষ্টায় এসব সমস্যার সমাধান করেছেন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাহলে আমরা পিছিয়ে থাকব কেন? তারা যদি অনলাইনে ক্লাস নিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারে তবে আমাদের পক্ষেও সেটা সম্ভব। এক্ষেত্রে আমাদের কোয়ালিটির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের বেসিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। পরিস্থিতির কারণে সবাই অনলাইনের আওতায় আসতে বাধ্য হবেন। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি পরিবর্তনের জন্য সময়ের প্রয়োজন। এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব হবে। এটি সম্ভব হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়ালেখা করতে আগ্রহ হারাবেন না।

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হচ্ছেন। শিক্ষা কার্যক্রম অনেক বেশি সহজতর হচ্ছে তাদের জন্য। অনেক শিক্ষার্থী আছেন, কাজ করে টিউশন ফি জোগাড় করেন। তাদের জন্য সুবিধা হবে। এটি চালু হলে পরিবহন-ব্যয়, সময় অপচয় রোধসহ নানা সুবিধা ভোগ করবেন শিক্ষার্থীরা।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষাব্যবস্থা স্বাভাবিকীকরণে সরকারের কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান : সংকটময় যেকোনো পরিস্থিতি যারা মোকাবিলা করতে পারবেন এবং দ্রুত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করতে পারবেন, তারাই এগিয়ে যাবেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। নিজেদের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

বর্তমান সরকার আমাদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে রূপরেখা তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে শিক্ষামন্ত্রী একটি গ্রুপের মাধ্যমে উপাচার্যদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী বারবার আমাদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে তাগাদা দিচ্ছেন। এখন গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমাদের সবার আগ্রহ ও ইচ্ছা পোষণ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here