বিশ্বে এক দিনে শনাক্ত রোগীর রেকর্ড

0
55

বিশ্বে আরও ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

ফলে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় যে রেকর্ড শুক্রবার হয়েছিল, শনিবারের সংখ্যা তাকেও ডিঙিয়ে গেল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর গত সাড়ে সাত মাসে এই প্রথম এক দিনে আড়াই লাখের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হল। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায়।

শনিবার এক দিনেই বিশ্বে এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৩৬০ জনের, যা ১০ মের পর সবচেয়ে বেশি।

জনস হপকিন্স বিশ্বাবদ্যালয়ের টালিতে শনিবার বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৬ লাখ।

অবশ্য অনেক দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। 

ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে নতুন এ ভাইরাসের আবির্ভাবের পর বিশ্বজুড়ে প্রথম ১০ লাখ রোগী পেতে সময় লেগেছিল তিন মাস। সংক্রমণের বিস্তৃতি ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ায় এরপর প্রতি ১০ লাখ শনাক্তে সময় ক্রমাগত কমতে থাকে।

গত সপ্তাহের সোমবার রোগীর সংখ্যা টপকায় এক কোটি ৩০ লাখ। তার মাত্র ১০০ ঘণ্টার ব্যবধানেই যুক্ত হয় আরও ১০ লাখ।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বে এখন শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে ফ্লুতে আক্রান্ত গুরুতর রোগীর প্রায় তিনগুণ।

বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত যত রোগী শনাক্ত হয়েছে তার এক চতুর্থাংশেরও বেশি মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৪৩টিতেই শনিবার শনাক্তের হার বেড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

ফ্লোরিডা, টেক্সাস, অ্যারিজোনার মত দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য, যেখানে লকডাউনের বিধিনিষেধ কার্যকরে ও মাস্ক ব্যবহারে আগে শিথিলতা দেখা গেছে, সেসব এলাকাতেই এখন সংক্রমণ বাড়ছে সবচেয়ে বেশি।  

জনস হপকিন্স বিশ্বাবদ্যালয়ের টালিতে যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সংক্রমণের এমন ঊর্ধ্বগতিতেও অবশ্য টলানো যাচ্ছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত মার্কিনিদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নির্দেশ দিতে তাকে রাজি করানো যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পর শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে সরকারি হিসাবে ২০ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি রোগীর সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা বলা হচ্ছে, মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৭৮ হাজার।

লাতিন আমেরিকার এ দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরোর দেহে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে। কট্টর ডানপন্থি এ প্রেসিডেন্ট প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধী ছিলেন। মতের মিল না হওয়ায় দুই দফায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বদলেছেন তিনি।

শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৩৮ হাজার ছাড়িয়েছে; দেশটিতে এখন প্রতিদিনই গড়ে ৩০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ২৩৭ জনের।

কেবল শনিবারই সেখানে ৩৪ হাজার ৮৮৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, ৬৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনও মাসখানেক বাকি।  

আর আফ্রিকা মহাদেশে সবচেয়ে নজুক অবস্থায় পড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা শনিবার সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা পৌঁছে গেছে প্রায় পাঁচ হাজারে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার নির্দেশনা মানার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারকে সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধিনিষেধসহ আগ্রাসী ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। বিডিনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here