বিশ্ব ব্যাংকের বিনিয়োগে ধ্বংস হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম শুষ্কভূমির বন

0
204

ক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েতে বিশ্ব ব্যাংকের বিনিয়োগ পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে এই বিনিয়োগে পরিচালিত ব্যবসায় লঙ্ঘন করেছে মানবাধিকার। মূলত, দেশটির চাকো সমভূমি অঞ্চলে গবাদি পশুপালন ব্যবসায়ে বিশ্ব ব্যাংকের বিনিয়োগের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের হয়ে এই বিনিয়োগ করেছে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ শাখা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন-আইএফসি। ব্রাজিলের প্রভাবশালী দৈনিক রিপোর্টার ব্রাজিল গত আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানায়। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে পত্রিকাটি। তারা জানায়, প্যারাগুয়ের চাকো সমভূমি অঞ্চলে গবাদি পশুপালন খামার তৈরিতে ২০১৩ সালে ব্রাজিলের মিনার্ভা মাংস উৎপাদনকারী কোম্পানিতে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে আইএফসি। এটি দক্ষিণ আমেরিকার সবচাইতে বড় মাংস উৎপাদনকারী কোম্পানি।

সংস্থাটির এমন বিনিয়োগে ধ্বংস হচ্ছে প্যারাগুয়ের চাকো অঞ্চলের বনভূমি। যা বিশ্বের সবচাইতে শুষ্কভূমির বন নামেও পরিচিত। বিশ্ব ব্যাংকের মদদে সেখানে গবাদি পশু ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ এত দ্রুত হয়েছে যার কারণে এখন সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে।

তবে এসব বিষয়ে অন্ধকারে ছিলনা বিশ্ব ব্যাংকের এই বিনিয়োগ সংস্থাটি। ২০১২ সালে আইএফসি তাদের বিনিয়োগপূর্ব পরিবেশ এবং সামাজিক ঝুঁকি শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এমন নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, চাকো অঞ্চলে বিনিয়োগ বনভূমি উজাড়, স্থানীয় আদিবাসীদের ভূমি অধিকার লঙ্ঘন এবং আধুনিক দাস প্রথার জন্ম দেবে। এছাড়াও, শিশুশ্রম এবং স্থানীয় মাংস উৎপাদক খামারিদের অধিকার লঙ্ঘনের কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে। সেখানে এই বিনিয়োগকে একটি উচ্চঝুঁকির ব্যবসায়িক উদ্যোগ বলে চিহ্নিত করা হয়। তবে এরপরেও মিনার্ভার মাংস ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকেনি আইএফসি। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে রেকর্ড গতিতে উজাড় হচ্ছে চাকো বনভূমি। বর্তমানে প্যারাগুয়েতে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুন লাগিয়ে জালিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই জমিতেই চড়ানো হচ্ছে গবাদি পশু। এতে ওই অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও, গবাদি পশুর রক্ষণাবেক্ষণে জোরপূর্বক নিয়োগ দেয়া হয়েছে অসংখ্য শিশুশ্রমিক। ২০১৬ সালে চাকো অঞ্চলে মিনারভা কোম্পানির একটি খামার থেকে এমন ৩৫ জন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সাড়া পায়নি রিপোর্টার ব্রাজিল। ব্রেটন ঊড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here