বিসিএস উত্তীর্ণ ৮ হাজার চিকিৎসকের কী হবে

0
15

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ চিকিৎসকের বিপরীতে পদায়ন করা হয়েছে মাত্র ছয়জনকে। তাদের মধ্যে ডা. কামরুন নাহার মিলি গত ৫ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যোগদান করে দু’দিন পরই মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে চলে যান। অন্য পাঁচজনের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হালদার, আবাসিক চিকিৎসক ডা. জুনায়েদ হোসেন লেলিন, মেডিকেল অফিসার আশরাফুল ইসলাম, ডা. মো. কামরুজ্জামান ও ডা. রেফায়েত হোসেন। মেডিসিন, গাইনি, সার্জারিসহ বিশেষজ্ঞ কোনো পদেই চিকিৎসক নেই। যে পাঁচ চিকিৎসক আছেন, তারাও দায়িত্ব পালন করেন পালা বদল করে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভিড় করেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় বেশিরভাগ রোগীকেই চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যেতে হয়। এতে করে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মতো সারাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোরও চিত্র প্রায় অভিন্ন। সারাদেশে ১০ হাজারের ওপরে চিকিৎসকের পদ শূন্য পড়ে আছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরি হচ্ছে না আট হাজার ৩৬০ চিকিৎসকের। নিয়োগের দাবিতে শুরুতে তারা মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও তা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েও পদ সৃষ্টিতে উদ্যোগী না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এ সমস্যার। সমকালের সঙ্গে অন্তত ২০ চিকিৎসকের কথা হয়েছে। ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তারা বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ভর করেছে। তাদের বাইরে আরও প্রায় ৫০ হাজার চিকিৎসক এমবিবিএস ও বিডিএস পাস করেও সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। কেউ বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে, আবার কেউ চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় কেবল প্রধানমন্ত্রী চাইলেই সব বাধা দূর করে সরকারি চাকরিতে এই উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের নিয়োগ দিতে পারেন বলে মনে করেন তারা। তাই এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্র : সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here