বিয়ে: স্বর্গীয় ভালোবাসার অটুট বন্ধন

0
318

ইজাব ও কবুল তথা প্রস্তাব ও প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে একজোড়া নর ও নারীর একটি পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিয়ে বলে। বিয়ের প্রস্তাব ও এই প্রস্তাব গ্রহণ কিংবা গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে তারা উভয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন। জোর করে অথবা কোনোরূপ ভয়-ভীতি কিংবা টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে বিয়ের বন্ধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসলামে বিয়ে বন্ধন কোনো গোপন চুক্তি নয়। তা হতে হবে প্রকাশ্যে একাধিক স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে ঘোষণার মাধ্যমে। গোপন বিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতি পায় না। যে বিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতি নেই, সে বিয়ে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মহান রাব্বুল আলামিন সমগ্র জাতীকে দুভাগে বিভক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। যার অর্ধেক নর আর অর্ধেক নরী। অতঃপর বেঁধে দিয়েছেন দয়া-মায়া, অনুরাগ ও ভালোবাসার বন্ধনে।

ইসলামে বিয়ের ভেতর পাঁচটি উপকার রয়েছে। ১. সন্তান লাভ। ২. কামরিপু দমন। ৩. বসবাসের স্থান। ৪. আত্মীয়-স্বজন বৃদ্ধি। এবং ৫. গৃহকর্মে পত্মীর সহযোগিতা ও সহানুভূতি লাভ। স্বামী স্ত্রীর মিলনের ফলে সন্তানের জন্মলাভ ঘটে। এতে বংশরক্ষা এবং জনসংখ্যা বিস্তার লাভ করে। এটি বিয়ের মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যের ফলস্বরূপ ঘটে মানব অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা, রাসুল (সা.) এর উম্মত বৃদ্ধি এবং এর মাধ্যমে তার ভালোবাসা অন্বেষণ, মৃত্যু পর নেক্কার সন্তানের দোয়া পাওয়ার পথ সুগম হয়।

শয়তানের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে বিয়ে উত্তম অস্ত্র। প্রবৃত্তিকে বশে রাখা, কামরিপুর অসহনীয় দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, চোখের দৃষ্টি ধর্মীয় আঙ্গিকে সামলে রাখা এবং লজ্জাস্থান রক্ষার করার জন্য বিয়ে অনেক উপকারী। রাসুল (সা.) যুবকদের সম্বোধন করে বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা সিয়াম হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম’। (বুখারি : ৫০৬৫)। পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ইসলামের দৃষ্টিতে বিশেষ একটি গুণ যাচাই করে দেখা আবশ্যক। সে গুণটি হচ্ছে, ‘কনের দীনদার ও ধার্মিক হওয়া।’ এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘চারটি গুণের কারণে একটি মেয়েকে বিবাহ করার কথা বিবেচনা করা হয়। তার ধন-সম্পদ, তার বংশ গৌরব তথা সামাজিক মান-মর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য এবং দীনদারী। কিন্তু তোমরা দীনদার মেয়েকে বিবাহ করে সফলতা অর্জন কর।’ ( বুখারী:৪৭০০)। হাদিসে বর্ণিত চারটি গুণের মাঝে সর্বশেষ গুণটাই মুখ্য। প্রথম তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকার পরেও যদি শেষের গুণ, দীনদারী না থাকে, তাহলে প্রথমোক্ত তিনটি গুণ মূল্যহীন হয়ে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে মেয়েকেও পছন্দের ব্যাপারে সুযোগ দিতে হবে। সম্প্রতি এ বিষয়টি আমরা অনেকটা এড়িয়ে যাই। অথচ তা খুবই জরুরি।

সত্যিকারের বিয়েতে কেবল একটি শর্ত থাকবে। আর তা হলো, পরস্পর দুজন-দুজনাকে আদর সোহাগ, মায়া-মমতা, সহানুভূতি আর ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ রাখবে চিরকাল। আর বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বীয় চরিত্রকে পরিচ্ছন্ন ও কলুষমুক্ত রাখা এবং মনের প্রশান্তি লাভ। কেননা, প্রেম ও সহানুভূতিহীন সাধারণ বেশ্যাগমনে পুরুষের শারীরিক আনন্দবোধ হতে পারে, তবে তা মানসিক তৃপ্তি আনয়ন করে না কখনোই। বিয়ের পবিত্র বন্ধন উভয় ক্ষেত্রেই সফল।

মহান রাব্বুল আলামিন পৃথিবীর সমুদয় সৃষ্টি জোড়ায় জোড়ায় তৈরি করেছেন। ফলে মানব-মানবীর বিয়ে তারই একটি সফল পরিণতি। অবাধ যৌন মিলন পশুত্বের উদাহরণ। মানব সমাজে তা কখনও প্রচলিত ছিলো না। যুগে যুগে বিয়ে প্রথার মাঝে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি স্থান লাভ করেছিলো, প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) এর মাধ্যমে সেগুলোর মূলোৎপাটন হয়ে একটি সুশৃঙ্খল প্রকৃতিক রূপ লাভ করেছে। ইসলাম ফিতরাতের ধর্ম। মানব ফিতরাতের গ-ি ডিঙ্গিয়ে জীবন-জাপন করতে পারে না। বিয়ে একে সুনিয়ন্ত্রিত করেছে। রাসুল (সা.) বিয়েকে তার সুন্নত হিসেবে ঘোষণা করে মুসলিম উম্মাহর জন্যে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। লেখক: শিক্ষক, রসুলপুর জামিয়া ইসলামিয়া,

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here