বীর প্রতীক তারামন বিবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

0
153

৭১’র মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবিকে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। পরে ঐ মাঠেই দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জানাজা শেষে এই বীর প্রতীককে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামে তার পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

এসময় উপস্থিত থেকে বীর প্রতীক তারামন বিবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা মেজর তাজ, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু, গণজাগরন মঞ্চের উদ্যোক্তা ইমরান এইচ সরকার, সাবেক এমপি জাকির হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থেকে ময়মনসিংহ সিএমএইচ (সেনা ক্যান্টমেন্ট হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১ সপ্তাহ আগে তিনি রাজিবপুরের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়,  শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বীর প্রতীক তারামন বিবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেলোয়ার হোসেন বাড়ীতেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। পরে রাত দেড়টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয় এবং তিনি শেষ নিশ্বাষ ত্যাগ করেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১নং সেক্টরের হয়ে তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীদের রান্নাবান্না, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকবাহিনীদের খবরাখবর সংগ্রহ করা এবং সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। এ কারণে তাকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশে যে দু’জন মহিলা মক্তিযোদ্ধাকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়া হয়েছে তারামন বিবি তার একজন।

বীর প্রতীক তারামন বিবির পুত্র আবু তাহের জানান, আমার মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। সরকার সব সময় আমার মায়ের ও পরিবারের পাশে ছিলেন। মা মারা যাওয়ার পরেও যেন সরকার আমাদের পরিবারের জন্য লক্ষ্য রাখেন।

মুক্তিযোদ্ধা মেজর তাজ বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তারামন বিবির অকাল মৃত্যুতে আমি শোকাহত। যদিও তারামন বিবির মৃত্যু হয়েছে আমি মনে করি বাংলাদেশ যতদিন বেঁচে থাকবে তিনিও ততদিন বেঁচে থাকবেন।

তারামন বিবির সহযোদ্ধা শওকত আলী বীর বিক্রম জানান, তারামন বিবি আমাদের সাথেই যুদ্ধ করেছে। সে অনেক কষ্ট করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অনেক খবর সংগ্রহ করাসহ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন বীর সেনাকে হারালাম।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম জানান, বাংলাদেশে দুইজন নারী বীর প্রতীকের একজন তারামন বিবি। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত এবং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিতে পেরে আমরা গর্বিত।

জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, তারামন বিবি অসুস্থ থাকায় আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় তার খোঁজ খবর রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আসছিলাম। শনিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা শোকাহত। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার গ্রামের বাড়ি কাচারীপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here