বোরকা পরে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাহেদ: র‍্যাব

0
54

বোরকা পরে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদ। আজ (বুধবার, ১৫ জুলাই) ভোরে বোরকা পরে ছদ্মবেশে সে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই তাকে র‍্যাবের বিশেষ দল গ্রেফতার করে বলে জানান র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বুধবার সকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরায় সাহেদের গ্রামের বাড়ি। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোয় র‍্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ভোর সাড়ে ৫টায় সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’

গ্রেফতারের সময় সাহেদ করিম  ওরফে মোহাম্মদ সাহেদ বোরকা পরে নৌকায় সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। খবর পেয়ে আমাদের গোয়েন্দা পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর সাহেদকে ঢাকায় আনা হয়েছে

তিনি আরও জানান, সাহেদ অত্যন্ত উঁচুমানের একজন প্রতারক। যার ফলে তার সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের মানুষের যোগাযোগ ছিল। সে সব ধরনের প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট পরিবর্তন করে সাতক্ষীরায় চলে যায়। ভোররাতে সে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করে। 

তার কাছ থেকে গুলি ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তাকে র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ৩টায় র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে তার বিষয়ে তথ্য জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। একদিন পর গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এর আগে অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম এই আদেশ দেন। দুটি পৃথক মামলায় এই আদেশ দেন আদালত। তিন কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করে মাসুদ এন্টারপ্রাইজ। 

অর্থ আত্মসাৎ, করোনার ভুয়া সনদ দান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে চিকিৎসাজনিত প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। রিজেন্ট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের জাল সনদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here