বড় পুকুরিয়া কয়লা চুরির তদন্ত শেষ হলেও, চার্জশিট দিচ্ছে না দুদক

0
156

দেশজুড়ে তোলপাড় হলেও সহসাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা গায়েব মামলার অভিযোগপত্র দিচ্ছে না দুদক। তদন্তে জালিয়াতির পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া সত্বেও আদালতে অভিযোগপত্র দিতে দেরি হবার কারণ সুস্পষ্টভাবেও বলছেন না দুদক কর্মকর্তারা। ২০০৪ সালের জুন থেকে গত ১৯শে জুলাই পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা বিক্রি করে ২২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

২৩০ কোটি টাকা দামের ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা চুরির অভিযোগে, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির প্রশাসন বিভাগ থেকে ২৪শে জুলাই ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে এ মামলাটি তদন্তের জন্য আসে দুর্নীতি দমন কমিশনে।

তদন্তের শুরুতেই আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠায় দুদক। এরপর আসামি এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত দুই মাসে ৩৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। মামলার অন্যতম প্রধান আসামি বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমেদ দাবি করেছিলেন, কয়লা আত্মসাৎ হয়নি, সিস্টেম লস হয়েছে। হাবিব উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘শুরুতেই একটা টেকনিক্যাল লস হয়েছিল। সেটাই আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। এখানে কোন প্রকার চুরির ঘটনা ঘটেনি।’

তদন্তকালে বেশকিছু নথিপত্র জব্দ করে দুদক। দুদকের তদন্তে ২০০৪ সালের জুন থেকে গত চলতি বছরের ১৯শে জুলাই পর্যন্ত খনিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ টন কয়লার মজুদ পাওয়া গেছে। সরেজমিন তদন্তে গত ২৪শে জুলাই পর্যন্ত প্রকৃত মজুদ পাওয়া গেছে মাত্র ৩ হাজার ৯১৬ টন। এই হিসাব অনুযায়ী ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ টন।

প্রতি টন কয়লার দাম ১৫ হাজার ৯০১ দশমিক ১০ টাকা হিসাবে ঘাটতি ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ টন কয়লার দাম দাঁড়ায় ২২৮ কোটি ৫৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৩ টাকা।

গত ১৩ই আগস্ট দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, আদালতে শিগগিরই চার্জশিট দেয়া হবে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা এখন বলছেন, তার হাতে আরও পর্যাপ্ত সময় আছে।

দুদক সচিব শামসুল আরেফিন জানান, ‘তদন্তে অগ্রগতি হলেও আরও সময় প্রয়োজন। সঠিক তথ্য বের করে আনতে এবং তদন্ত গ্রহণযোগ্য করতে আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। আইনে আমাদের ১৮০ দিন সময় দেয়া আছে। আমাদের এখনো সময় শেষ হতে অনেক দিন বাকী আছে, এর মধ্যেই আমরা অভিযোগপত্র দেয়ার চেষ্টা করবো।’

এদিকে, গ্রেপ্তারে দুদকের অনীহা থাকায় মামলার আসামিরাও এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here