ভাইরাল আতঙ্কে তারকারা

0
17

ফেসবুক হ্যাকিং আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ঢাকাই শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ‘ভাইরাল’ আতঙ্ক। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল ছড়িয়ে দিচ্ছে তারকাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি, ভিডিও বা তথ্য। মুহূর্তেই এসব নিয়ে ঘটে যাচ্ছে তুলকালাম কান্ড। কার্যতই বিনা অনুমতিতে প্রকাশিত এসব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তারকাদের। সব মিলিয়ে এ প্রজন্মের তারকাদের মধ্য বিরাজ করছে ভাইরাল আতঙ্ক। ভাইরাল হওয়া ছবি, ভিডিও বা লেখাগুলো অনেক সময় বানের তোড়ে ভেসে যায়। এর কোনো কোনোটি সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কিছু ভাইরাল বিষয় স্রেফ আনন্দ দিয়ে যায়, কোনোটি ভাবায় কিংবা কাঁদায়।যায়যায়দিন

‘ভাইরাল’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় ‘বিষাক্ত’। এক কথায় ভাইরাল হওয়া বিষয়াদিও তারকাদের কাছে বিষাক্ত এক নাম। ধরা যাক, ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীর কথা। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে এক ব্যক্তির হাত ধরে শপিং মলে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে মেহজাবিনকে। তাতে মেহজাবিন ঘনিষ্ঠভাবে যার হাত ধরে ছিলেন তিনি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা আদনান আল রাজীব।

এর আগও রাজীবের নাম জড়িয়ে মেহজাবিনের বিয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সে সময় রাজীবকে শুধু ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে দাবি করেছিলেন মেহজাবিন। ভিডিওটি দেখার পর তাদের ভক্তরা আবারও দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানোর চেষ্টা করছেন। পরে অবশ্য জানা গেছে, কেউ একজন লুকিয়ে ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মেহজাবিন। অনেকটা কড়া ভাষায় বলেছিলেন, ‘সে আমার বন্ধু। আমি বন্ধুদের সঙ্গে কিভাবে চলবো তা নিয়ে অন্যের না ভাবলেও চলবে।’

তার কিছুদিন আগে ভাইরাল হয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও জাকিয়া বারি মমর একটি ভিডিও। একটি রিয়েলিটি শো’র বিচারক হিসেবে প্রতিযোগীদের সঙ্গে বাজে আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন এ দুই অভিনেত্রী। যদিও পরবর্তীদের তারা জানিয়েছিলেন পুরো বিষয়টিই ছিল স্কিপটেড, অর্থাৎ আগে থেকেই পরিকল্পনা করা। এ নিয়ে রীতিমতো হুমকির মুখে পড়েন ফারিয়া। বাধ্য হয়ে থানায় গিয়ে জিডিও করেন তিনি। তার আগে ফারিয়ার নিজের গায়ে হলুদে নাচার ভিডিও নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হই চই হয়েছে। বাধ্য হয়ে কিছুদিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেড করে রেখেছিলেন তিনি।

সম্প্রতি অভিনেত্রী মিথিলা ও নির্মাতা ফাহমির অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বেকায়দায় পড়েন তারা। নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনায় আইনের আশ্রয়ও নিয়েছেন এ অভিনেত্রী। তার আগে ওপার বাংলার নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির সঙ্গেও মিথিলার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

প্রশ্ন উঠেছে, অনুমতি ছাড়া অন্য কারো একান্ত বিষয় প্রকাশ্যে আনা যুক্তিসম্মত? ব্যক্তিজীবনে একজন মানুষ অনেক কিছুই করে থাকেন। তার কতটুকু প্রকাশ্যে আসতে পারে সেটা তার একান্তই নিজেস্ব ব্যাপার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here