ভারতের উপর নির্ভর করছে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন যাবে

0
196

সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দু’সপ্তাহ না পেরুতেই দেশটির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করছে। দেশটির বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন ইস্যুতে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগের খবর বেশ পুরনো হলেও ইমরান বলেছেন অন্তত তার সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করবে।

এদিকে সম্পর্ক বিশ্লেষক এবং কূটনীতিকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে ভারতের উপর নির্ভর করছে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন যাবে। একই সাথে দেশটির নতুন উদ্যোগের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ নিয়ে যোগাযোগের উন্নয়ণে যুক্ত হতে পারে।

ইমরানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশটি ব্যাপক পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পরিবেশ তৈরি করাটা দেশটির জন্য হবে বড় ধরনের ইতিবাচক দিক। সেটাতে যদি দেশটি ব্যার্থ হয় তবে নয়া সরকারের আঞ্চলিক গুরুত্ব তলানিতেই থেকে যাবে। বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের গভিরতা তখনই আসবে যখন তারা বাংলাদেশের কাছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে করা সকল অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইবে।

দেশটির কাছে বারবার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি জানানো হলেও তাদের অবস্থান পাল্টায়নি। উল্টো রাজাকারদের বিচারের সময় পাক সংসদে তারা এর বিরোধিতা করেছে। আভ্যন্তরীন বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ বন্ধ না হলে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের গভিরতা আসবেনা বলে মনে করছেন ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

বিদেশে অবস্থানরত সাবেক পররাষ্ট্রসচিব সমশের মুবিন চেীধুরী মুঠো ফোনে আমাদের এ প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশ-পাকিস্তান নতুন সম্পর্কে এগুবে কিনা সেটা এখনই বলা মুশকিল। তবে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কেমন হচ্ছে সেটার উপর নির্ভর করছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন যাবে।

সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ইমরান খান কেবলইতো শপথ নিলেন। এই মূহুর্তে কিছু বললে সেটা আগাম বলা হয়ে যাবে। যদিওবা পাক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে কথা হয়েছে এটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার। রাষ্ট্রাচারের বাইরে গিয়ে পাক-ভারত বরফ গলার মতো বিষয় কিন্তু এটা না।

বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে বলতে গেলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশুগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক কেমন হচ্ছে সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে। সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হবে কিনা, আর হলে সেটি পাকিস্তানে হবে এমনটা বলার পরিবেষ এখনি তৈরি হয়নি। তবে সার্কের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশকেই বেশি ভাবতে হবে। আঞ্চলিক উন্নয়ণে এবং সম্পর্ক তৈরিতে পাকিস্তানের সার্ক সম্মেলন নিয়ে এগুনোর এটা একটা সুযোগ। ইমরানের সরকার সেটা করবেন কিনা বুঝা মুসকিল।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে কিছুটা ইতিবাচক ভুমিকা নিতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের যে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা সেটা হয়ত ইমরান খানের সরকার আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে ওভারকাম করতে পারবেন। সেটা করবেন কিনা এটা একটা ব্যাপার। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক একদম যে নেই বিষয়টা ঠিক তাও নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশর সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাবসা-বানিজ্য চলছে। উভয় দেশের জনগনের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। সার্ক সম্মেলন একটা বিষয়। এই প্লাটফর্ম ধরে দেশটি নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়ণের দিকে এগুতে পারে। নতুন উদ্যোগের সাথে এটা তারা ভাবতে পারে। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হলে সেটা এখানে প্রভাব পড়বে।

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এহসানুল হক বলেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে উষ্ণতা বহু আগে থেকেই নেই, এটা উন্নিত হবে বলেও এখনি মনে করছিনা। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারের ইস্যুতে ইমরান খান ব্যাক্তিগত ভাবে সমালোচনা করেছেন।

এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব মিলিয়ে কি নীতি গ্রহণ করছেন দেখার জন্য এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান যে অপরাধ করেছে সেটার জন্য তার সরকার বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইবে। জঙ্গিদের অর্থায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যান্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে।

তিনি বলেন, ইমরানের সরকারকে এখনি ইতিবাচক হিসেবে নেবার সুযোগ নেই। কারণ, এর আগে দেশটির সকল প্রধানমন্ত্রীরা শুরুতে ইতিবাচক কথা বলেছেন পরবর্তীতে কিন্তু ফলদায়ক কিছু হয়নি। সেনা বাহিনীর পছন্দের সরকার হিসেবে ইমরান নিজের ইচ্ছার কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারবে তা নিয়েও যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।

কেবলতো শুরু, তার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইমরানের সরকারও স্বল্প মেয়াদে ক্ষমতায় আসছে বলেই আমার মনে হয়। তার সরকার যে খুব শক্তিশালী সেটা কিন্তু নয়, শক্তিশালী বিরোধী দল সেখানে রয়েছে। রাশিয়ায় পাক-ভারত সেনাদের একসঙ্গে মহড়ায় অংশ নেবার বিষয়টি ইতিবাচক হলেও এ জন্য উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন হবে বলে মনে করছিনা। ১৯৪৭ সাল থকেই উভয় দেশ বৈরি সম্পর্কে রয়েছে। পাক-ভারত সম্পর্ক উন্নিত হলে সেটা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here