ভারতে আঘাত হেনেছে ‘তিতলি’

0
198

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যার এলাকায় তীব্র শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার দিকে, প্রতিঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে ঝড়টি। তীব্র ঝড়ের ফলে উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশে বেশিরভাগ এলাকায় স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের সতর্ক বার্তায় ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’কে অত্যান্ত শক্তিশালী ঝড় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। উপকূলে দুই থেকে তিন ঘন্টা অবস্থান করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।

উড়িষ্যার গোপালপুরে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতি ছিলো প্রতি ঘন্টায় ১০২ কিলোমিটার। আর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজ্যের পাঁচ জেলা ও অন্ধ্রপ্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বৃষ্টির সঙ্গে বইছে তীব্র বাতাস। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজ্যটির যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরই মধ্যে উড়িষ্যার পাঁচ জেলায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্কুল-কলেজসহ সরকারি বেসরকারি দপ্তরগুলো। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে তিন লাখ মানুষকে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে আজ বিকেল পর্যন্ত সারা দেশে নৌচলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ।

এতে ঢাকাসহ সারা দেশেই নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে কোথাও কোনও লঞ্চ ছাড়ছেনা। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে খুলনার উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পারিচালক শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় তিতলি ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ প্রদেশে আঘাত হানার পর তা দুর্বল হয়ে বাংলাদেশের খুলনা ও সুন্দরবন অংশে আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

গেলো রাতে খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার হচ্ছে।

তিতলির প্রভাবে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরিবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় চট্টগ্রাম প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জানান, ৩৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া জাহাজ চলাচল বন্ধ ও সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

– ডিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here