ভোটে জেতার জোট আদর্শগত ঐক্য বলে কিছু নেই

0
346

নির্বাচনে জয়ি হলে সাধারণ মানুষের অনেকগুলো আশাই বাস্তবায়ন করবো। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে হামেশাই। এরমধ্যে সবচেয়ে আশাবাদি বক্তব্য দিয়েছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লা চৌধুরী। তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধি দল নামের একটি রাজনৈতিক জোট অংশ গ্রহণ করবে। এই জোটটি নির্বাচনে জয়ি হয়ে সরকার গঠন করবেই। জোট বদ্ধ নির্বাচন ও জোট গঠন ও জোট ভাংগার মধ্যে জাফরুল্লা চৌধুরীর এই জোট গঠন প্রস্তাবটিই এখন পর্যন্ত নতুন চিন্তা। তার এই প্রস্তাবিত জোট জয়ি হলে জনগণের কি প্রত্যাশা পূরণ হবে। এ নিয়েও তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু রাজনীতি ফিরে আসবে। ৫ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান হবে। আর বঙ্গবন্ধুর ১০০তম জন্ম বার্ষিকি পালন হবে স্বতস্ফুর্ত ও ধুমধামে। একই সঙ্গে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তিও পালন হবে একইভাবে। এগুলো খুবই মনোরম কথা। কিন্তু বাস্তবের নীরিখে কত টুকু সত্য। তা যদি জনগণ যাচাই করে তবে কী দাড়ায় তার একটি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।
যেমন সুষ্ঠু রাজনীতি ফিরে আসবে এটার মানে হলো, এখন সুষ্ঠু রাজনীতি নেই। এটা উনার মতামত হতে পারে কিন্তু জনগণ কী এটা মনে করে। বা রাজনৈতিক দলগুলো যারা সম্মিলিত রাজনৈতি জোটে যাবে তারা কি মনে করে দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। যদি নাই থাকে তাহলে তারা জোট কাদের সঙ্গে করছে। এখানে সম্মিলিত রাজনৈতিক জোট গঠন কি কোন আদর্শিক। না শুধু শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর নির্বাচনি জোট। জাফরুল্লা চৌধুরী বলেছেন, রাজনীতির গুনগত পরিবর্তন হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আদর্শিক জোট না হলে গুনগত পরিবর্তন হবে কিভাবে। যদিজোটটা একটি মাত্র সরকার পতনের জোট হয় তবে প্রশ্ন থাকে রাজনীতির কি গুনগত পরিবর্তন হবে। ধরলাম শেখ হাসিনার জোট নির্বাচনে হেরে গেল। পরে তার নেতৃত্বাধীন জোট আবারো একটি মহা সম্মিলিত জোট বানিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে যাবে না তার গ্যারান্টি কি। এ হিসাবে ড. জাফরুল্লার প্রস্তাবিত জোট কোন গুনগত পরিবর্তনের জোট নয় এটি সরকার পতনের জোট।আর অন্যান্য প্রতিশ্রুতি যেমন বেকার সমস্যার সমাধান বা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিশেষ দিনের উদযাপন।এটি পালন হবে নির্বাচনে সম্মিলিত জোটের জয়ী হওয়ার পরে। যদি প্রত্যাশার আলোকে বিচার করি তাহলে দেখবো, আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিতো আরো বড়, যেমন তিনি ২১ সালের মধ্যেই দেশের শিক্ষিত ২৬ লাখ বেকার কমিয়ে ৫ লাখে নিয়ে আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এটার উপর ভরসাও করা যায় কারণ আওয়ামীলীগের গত দুটি নির্বাচনি ইশতেহারের বেশিরভাগ অর্থনৈতিক দাবিই তিনি পূরণ করেছেন। আর রইল বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ দুটি অনুষ্ঠান একটি বঙ্গবন্ধুর ১০০ তম জন্মবার্ষিকি উদযাপন ও স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি। এদুটি বিষয়ের সঙ্গেই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ। সুতরাং তাদের নেতৃত্ব ছাড়া এ দুটি অনুষ্ঠান স্বতস্ফুর্ত হওয়ার কোন কারণ আছে বলে মনে হয়না।
পরিশেষে সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত সেনের একটি স্বাক্ষাতকারে জোট গঠন নিয়ে লেখাটি শেষ করছি। তিনি বলেছেন. শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য জোট করবো এটা রাজনীতির দিক দিে ভাল নয়। নির্বাচনের দিক দিয়েও ভাল নয়। এ বিষয়ে প্রথমেই সতর্ক থাকা দরকার। তার মতে জোট গঠনে প্রয়োজন একটি বড় রকমের আদর্শ। আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করছি এখন এটা বলতে লোকে ভয় পায়। মনে করে বাস্তব থেকে বিচ্যুত হলাম। এ্সব জোট দেখে মনে হয় আদর্শগত ঐক্য বলে কিছু নেই।

বিশ্বজিৎ দত্ত

নিবার্হী সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here