মদের নিরাপদ মাত্রা নেই, বছরে ২৮ লাখ মৃত্যু

0
242

বিশ্বে প্রতি তিনজনে একজন মদ পান করে। অপরিণত বয়সে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতার জন্য সপ্তম ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস মদ্যপান। প্রতিবছর ২৮ লাখ মানুষ মারা যায় মদের কারণে।
গত বৃহস্পতিবার মদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এক প্রবন্ধে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট। ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯৫টি দেশে মদের ব্যবহার, অসুস্থতা ও মৃত্যুর তথ্য এতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে গবেষকেরা বলেছেন, মদের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। প্রবন্ধে বলা হয়, ডেনমার্কের মানুষ সবচেয়ে বেশি মদ পান করে। সবচেয়ে কম মদ পান করা দেশগুলোর তালিকায় আছে বাংলাদেশ।
গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগ থেকে এই গবেষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিকস এই উদ্যোগের প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।
এর সঙ্গে যুক্ত আছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) অসংক্রামক ব্যাধি বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলিয়া নাহিদ। তিনি বলেন, ‘মদ সরাসরি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়, এটা ক্যানসারের অন্যতম কারণ। এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের গবেষকেরা এক সুরে বলছেন, মদের কোনো গ্রহণযোগ্য মাত্রা নেই।’
গবেষকেরা বলছেন, ১৫-৪৯ বছর বয়সী মানুষের ১০টি মৃত্যুর মধ্যে একটি ঘটে মদের কারণে। নিয়মিত মদ্যপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। মদে অভ্যস্ত মানুষ সহিংস হয় এবং অনেক সময় নিজের ক্ষতি করে।
বিশ্বব্যাপী মানুষ কী পরিমাণ মদ পান করে, সেই হিসাব বের করতে গবেষকেরা ৬৯৪টি পূর্বের গবেষণা পর্যালোচনা করেন। এ ছাড়া মদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য আরও ৫৯২টি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব পর্যালোচনা শেষে গবেষকেরা বলছেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্যানসারে মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ মদ্যপান।

২০১৬ সালের বৈশ্বিক তথ্যে দেখা গেছে, ২.২ শতাংশ নারী ও ৬.৮ শতাংশ পুরুষের অপরিণত বয়সে মৃত্যুর কারণ মূলত মদ্যপান। ১৫-৪৯ বছর বয়সীদের প্রধান মৃত্যুঝুঁকি ছিল মদসংশ্লিষ্ট কারণ। এই বয়সসীমায় মানুষ সড়ক দুর্ঘটনা, আত্ম-আঘাত ও যক্ষ্মায় বেশি মারা যায়। অন্যদিকে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী মারা যায় মদ্যপানসংশ্লিষ্ট ক্যানসারের কারণে (নারী ২৭ ও পুরুষ ১৯ শতাংশ)।
তবে দুটি ক্ষেত্রে মদের উপকারিতার তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহসংক্রান্ত হৃদরোগের (স্কেমিক হার্ট ডিজিজ) মদ কিছুটা সুরক্ষা দেয়। অন্যদিকে ডায়াবেটিকের ক্ষেত্রে সুরক্ষার একটি সম্ভাবনার কথা বলা হয়। তবে এই দুটি ক্ষেত্রে যে পরিসংখ্যান তাঁরা পেয়েছেন, তা যৎসামান্য।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি
বিশ্বে প্রতি তিনজনে একজন মদ পান করে। এদের মোট সংখ্যা ২৪০ কোটি। ডেনমার্কের ৯৫.৩ শতাংশ নারী এবং ৯৭.১ শতাংশ পুরুষ নিয়মিত মদ খায়। শতাংশের বিবেচনায় ডেনমার্ক তালিকার শীর্ষে।
শতাংশের বিবেচনায় সবচেয়ে কম মদ পান করে পাকিস্তানের পুরুষেরা ও বাংলাদেশের নারীরা। পাকিস্তানের শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ মদ পান করে। বাংলাদেশের শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ নারী মদ পান করে।

-প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here