মরুর ফুল শিশু মুহাম্মদ

0
256

আরবের মরু প্রান্তরে বিখ্যাত কুরাইশ বংশের হাশেমি গোত্রে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের মতান্তরে ১২ ই রবিউল আওয়াল বা ০৮ ই রবিউল আওয়াল রোজ সোমবার সুবহে সাদিকের সময় আব্দুল্লাহর ঔরসে মা আমেনার কোলে এক ছেলে শিশুর পদার্পণ ঘটে দুনিয়ায়। এ শিশু কোন সাধারন শিশু নয়। নাম তাঁর মুহাম্মদ। পূর্ববর্তী সকল ঐশী কিতাবে এ নামে শিশুর সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে তাঁর বরকতে অনেক মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। তখনকার সময়ে আরবের সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর মাঝে ধাত্রী প্রথা বিদ্যমান ছিল, অর্থাৎ জম্মের পরপরই সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য ধাত্রী মায়ের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রেরণ করা হতো।

বিনিময় স্বরূপ তাদেরকে কিছু প্রদান করা হতো। আর এ কারণে গ্রামের বিশেষ করে গরীব মহিলারা দল বেধে শহরে আসতেন ধাত্রী মায়ের ভূমিকা পালন করতে। বনী মুত্তালিবে সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছে আজ বেশ কয়েকদিন হলো কিন্তু শিশুনবী মুহাম্মদ (সা.) কে ধাত্রস্থ করা যায়নি। নিতে আসে অনেকেই কিন্তু ইয়াতিম শিশু বলে কেউ নেয়না। কারণ এখানে যথেষ্ট পরিমাণ পুরস্কারের আশা নেই। এ দিকে তায়েফ থেকে আসা সাদ গোত্রের হালিমা দম্পতিকেও কোন পরিবার সন্তান দিচ্ছে না কারণ, তাদের জীর্ণশীর্ণ চেহারা ও বাহন দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে তারা দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। সময় এসেছে ফেরার। সঙ্গীয় সাথীরা সবাই আনন্দিত।

ভগ্নহৃদয়ে হালীমা সাদিয়া (রাঃ) স্বামীকে বলেন, খালি হাতে ফেরার চেয়ে আমাদের জন্য উত্তম হবে ঐ ইয়াতিম শিশুকে নিয়ে যাওয়া। আল্লাহর অশেষ দয়ায় বিবি হালীমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো এবং শিশুনবী রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মা আমেনার কোল ছেড়ে তাঁদের কোলে এলেন।

যদিও কাফেলা চলে গেছে বহুদূর তবু সাদ দম্পতি তাদের একমাত্র বাহন উট বা খচ্চরে চড়ে বসলেন। এবার উল্কাবেগে ছুটে চলল সেই জীর্ণ-শীর্ণ দূর্বল উটটি। অল্পক্ষণেই পিছনে ফেলে দিলো সেই সব সবল উটওয়ালা সাথীদের। শুধু তাই না ; দুধ স্বল্পতায় যে শিশু মায়ের দুটো স্তান চুষেও সর্বদা কান্নাকাটি করত, শিশু মুহাম্মদের মুখে স্তান দেওয়ার ফলে সে এখন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে। সাথীরা বিস্মিত হয়ে বলাবলি করছে একি আমাদের সেই হালিমা নয় ! এ কি সেই দূর্বল উট নয় যা পেছনে পড়ে থাকত ! একসময় সাদ দম্পতি চলে এলেন বাড়িতে। এখানেও সেই আশ্চর্যময় ঘটনা ! যে ছাগলগুলো ছিল শুস্ক স্তনন্ধয়ী, সে গুলোই এখন দুগ্ধবতী।

অন্যদের ছাগলগুলো যেখানে ঘাসের অভাবে জীর্ণ শীর্ণ হয়ে মারা যাচ্ছে সেখানে হালিমার ছাগলগুলো পাথর চেটেও দুগ্ধবতী। এভাবেই শিশুনবীর রহমত/বরকতে সাদ দম্পতির অভাব-অনটন দূর হয়ে সমৃদ্ধি ফিরে আসল। আর এভাবেই মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী – মা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতুল্লিল আলামিন অর্থাৎ হে নবী ! সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য আপনাকে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি এর সত্যতা পর্যায়ক্রমে প্রমাণিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here