মাথা ব্যথা হলে কি মাথা কেটে ফেলবেন মাননীয় বন পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ?

0
393

হঠাৎ করেই আজ একটি অনুষ্ঠানে পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ঘোষণা দিয়েছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সেন্ট মার্টিন পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। তিনি সেন্টমার্টিনকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে চান। তাই বলেছেন সেখানে রাত্রি যাপন করা যাবে না। পর্যটনের জন্য এই সেন্টমারটিন একটি অসাধারণ জায়গা। বিশেষ করে রাতে আকাশ তারা চাঁদ জোছনা এক অন্যরকম রূপ নেয়। যা সাধারণত বাংলাদেশের অন্য কোথাও দেখা যায় না। এ সুন্দর্য দেখতে চমৎকার একটি দুটি কিংবা কয়েকটি রাত কাটাতে ভ্রমণ পিপাসু এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য গামে মানুষগুলো সেখানে ছুটে যান শীত মৌসুমে। এছাড়া কক্সবাজার থেকে অনেকে একদিনের জন্য সেন্ট মার্টিন ঘুরতে যান। সকাল সাড়ে আটটায় টেকনাফ থেকে জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়, তারপর আবার 3:30 ছেড়ে আসে। কেউ কেউ এই দু’ঘণ্টা সময় সেন্টমার্টিন ঘুরে থাকেন।
আমার মত অনেকেরই প্রিয় জায়গায় সেন্ট মার্টিন। বছরে চেষ্টা করি একবার যেতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গিয়ে দিনে দিনে চলে আসাটা সম্ভব না। মন্ত্রীর সঙ্গে আমি একমত যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হয়। এখানে আমার প্রশ্ন দিনের বেলা কি যত্রতত্র ময়লা ফেলা হবে না,,? তাছাড়া এই যে ঢাকা শহর বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত নগরী হলো, আমরা কি এই শহর থেকে চলে যাব। এখানে তো প্রতিটি শিশু দুজনের মধ্যে বড় হচ্ছে। তাদের জন্য কি ভাবছেন মন্ত্রী,?
হাতুড়ে ডাক্তারের মতো মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলার মত পরামর্শ পর্যটন শিল্পের জন্য কতটা আশার বাণী শোনাবে? আমি মন্ত্রীর এই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। পরিবেশের ভারসাম্য কিভাবে রক্ষা করবেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করবেন, এটা আপনি করবেন। রাত্রি যাপন মানা করে আমাদের গভীর সাগরের মত ফেলে দেবেন না।

দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সব পরিকল্পনা শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই এটি কার্যকর করা হবে।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরে এদেশে আর্থিক ক্ষতি হয় ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বে যেসব মানুষ মারা যান, তার ১৬ শতাংশই মারা যান পরিবেশ দূষণের কারণে। যেখানে বাংলাদেশে এ হার প্রায় দুই গুণ। দেশটিতে পরিবেশ দূষণের কারণে মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ।

– উম্মুল ওয়ারা সুইটি

উপদেস্টা সম্পাদক, আমার গণমাধ্যম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here