মির্জা ফখরুলের সফর, রাজনীতিতে তোলপাড়

0
133

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির মহাসচিব এ কথা জানান। ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরো জেনকার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মির্জা ফখরুল। জাতিসংঘের পাঁচজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জেনকার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠকের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে শুরু হয় তোলপাড়।

মির্জা ফখরুলের এই সফর নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা ছিলেন অন্ধকারে। এমনকি বিএনপি মহাসচিব বিমানবন্ধরে পৌঁছানোর আগ পর্যন্তও তারা জানতেন না মির্জা ফখরুল জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। ফলে সরকারের মধ্যে একটা ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে বিএনপি মহাসচিবের এই সফর নিয়ে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন বৈঠক নিয়ে স্বচ্ছ নয়, বরং মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন ফখরুল। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, সারা বিশ্বই জানে মির্জা ফখরুল কার আমন্ত্রণে এবং কেন নিউইয়র্ক সফর করছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলারে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বিএনপি। তিনি বলেন, লবিস্ট নিয়োগ করে তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু আমরা কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করবো না। বাংলাদেশ কি যুদ্ধবিধস্ত দেশ? এটা কি পাকিস্তান, সিরিয়া, সুদান?। তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব গেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে দেখা করতে। কিন্তু আমার জানামতে জাতিসংঘ মহাসচিব এখন ঘানায় অবস্থান করছেন। বিএনপি এখন অভিযোগের দল ও নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে। বিদেশি কোনো চাপ এদেশের জনগণ মানবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, অহেতুক বিদেশে ঘোরাঘুরি করে কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন হবেই। রেজাল্ট যা হয়, আমরা মেনে নেবো। বাংলাদেশের জনগণ বিদেশি রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না, বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। একইসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের নিউইয়র্ক সফর নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলো, কিন্তু জবাব দিতে পারলেন না বিএনপি মহাসচিব। ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল’ বলে কোনো রকম বেঁচে আসলেন। রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া হলে একটা রাজনৈতিক দলের এ অবস্থা হয়!।

মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির নেতারা জাতিসংঘের সর্বনিম্ন পর্যায়ে কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, মির্জা ফখরুলদের জাতিসংঘে যাওয়া জনগণকে ধোঁকা দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়। তারা জাতিসংঘে গিয়ে জাতিসংঘের সর্বনিম্ন পর্যায়ে কর্মকর্তা অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করেছেন। এ লজ্জা তিনি ঢাকতেও পারছেন না।

জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য বিএনপিকে নিউইয়র্কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এ জন্য ক্ষমতাসীনরা শঙ্কিত, বিব্রত এবং ঈর্ষান্বিত হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মওদুদ বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন সময়ের অভাবে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেননি। সেজন্য তিনি বিএনপিকে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতেই আমাদের মহাসচিব নিউইয়র্ক গেছেন, নিজের থেকে যাননি। তিনি নালিশ করতে নয়, দেশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার জন্য গেছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সারাবিশ্ব জানে বিএনপি মহাসচিব কার আমন্ত্রণে এবং কেন নিউইয়র্কে গেছেন। আওয়ামী লীগের চরিত্র হলো তারা মিথ্যাচার করে প্রতিপক্ষকে ছোট করতে চায়। বাস্তবতাকে মিথ্যার আবরণে ঢাকতে চায়। কিন্তু সব সময় তা সফল হয় না। বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য রাষ্ট্রের কাছে গেলে বা বসলে সেটা নিয়ে কোন বির্তক দেখা যায় না, সে সময় অসম্মান হয় না। আর অন্যরা গেলে তাদের গা জ্বালা শুরু হয়, সহ্য করতে পারে না। দুদু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা তত্ত¡াবধায়ক সরকারের জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে গিয়ে ধর্ণা দিয়েছিল। তাদের এসব বক্তব্যে বোঝা যায় তারা সুস্থ্য ধারার রাজনীতিতে নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here