মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত নির্দেশনা ৭ মার্চের ভাষণ

0
30

পরাধীনতা থেকে বাঙালি জাতির মুক্তি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের মধ্যে শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ডাকই নিহিত ছিল না, এ ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃত।এবার দিবসটি আরও তাৎপর্য বহন করে। এ বছর ৭ মার্চ জাতীয় দিবস হিসেবে পালন হচ্ছে।

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। ’ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। তার এ ভাষণ ছিল জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার চূড়ান্ত নির্দেশনা।

রোববার সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এদিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) লাখ লাখ জনতার উত্তাল সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার এ ভাষণে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। মাত্র ১৮ মিনিটের এ ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে দিক নির্দেশনা দেন তিনি। তার ওই ভাষণের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের সব দিকনির্দেশনা।

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। ’

এ ভাষণের মধ্যেই স্পষ্ট ছিল পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত হতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু এ ভাষণ দেন।

২০১৭ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি বিশ্ব ঐতিহ্যের (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) স্বীকৃতি দেয়।

সেদিন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশ দিয়েছিলেন বাঙালি তা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেছে। ওই দিনের পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের সব কিছু চলেছে বঙ্গবন্ধুর কথায়।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ জীবন দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রস্তুত নিতে থাকে। স্বাধীনতার জন্য অদম্য স্পৃহা নিয়ে সংগ্রামরত মুক্তিকামী জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু সেদিন বজ্র কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। ’ বঙ্গবন্ধুর ওই নির্দেশের পর ছাত্র, যুবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের জন্য সেভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক ভ্রান্ত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে চাপিয়ে দেওয়া অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়েছে। ধাপে ধাপে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এড়িয়ে চলা বাঙালি পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে আলাদা হতে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করে। বাঙালির এ স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামরত মুক্তিগামী বাঙালি ৭ মার্চ চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে উপনীত হন।

৭ মার্চের এ ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের শাসন-শোষণ-পীড়ন থেকে নিজেদের মুক্ত করে স্বাধীনতা অর্জনের সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরবর্তিতে ২৫ মার্চের কালোরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই রাতেই গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।  

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। সূত্র : বাংলানিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here