মুক্তিযুদ্ধের বিষয়কে পুঁজি করে, এই আচরণ করতে পারে না: সুলতানা কামাল

0
164

ত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, আমরা উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নাম করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন তারা, দায়িত্ব নিয়ে সেটা পালন করতে পারছেন না। সেজন্য আমাদের আরো বড় করে উদ্বেগটা প্রকাশ করতে হবে। ‘মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি পবিত্র বিষয়কে পুঁজি করে, আমাদের সঙ্গে এই আচরণ তারা করতে পারে না।

সোমবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্ক: দায় দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

সুলতানা কামাল বলেন, তাদেরকে আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে, তারা অঙ্গীকার করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আরেকটা বিষয় দেখতে পাচ্ছি যে, শহিদুল আলমকে ধরে নিলো, তার স্ত্রী এতেই সন্তুষ্ট যে সে কারাগারে আছে। এই বাচ্চাগুলোকে ধরে নিলো, অনেকদিন ধরে তাদের কোনো খবর নেই। অমানবিক, নিষ্ঠুর যন্ত্রণার মধ্যে অভিভাবকরা যখন দেখলেন বাচ্চাগুলো ডিবি অফিসে আছে, সেই অভিভাবকরা এতেই সন্তুষ্ট হয়ে বলছেন, ‘তারা ডিবি অফিসে আছে, তাদের মেরে ফেলা হয়নি। একটা জাতি যখন শুধু মাত্র প্রাণ বেঁচে আছে, এটুকুতেই সন্তোষ প্রকাশ করে, সেই জাতির অবস্থান কোথায় গেছে? সেই জাতি কোথায় দাঁড়িয়েছে? এসব দেখলে আমার মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা মনে পড়ে। সেই জায়গায় যদি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আমাদের নিয়ে যায়, তাহলে আমি তাদের ধিক্কার জানাই। মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি পবিত্র বিষয়কে পুঁজি করে আমাদের সঙ্গে এই আচরণ তারা করতে পারে না।

শহিদুল আলমের স্ত্রী ড. রেহনুমা আহমেদ বলেন, ‘এদেশের একজন লোককে হাত ও চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে আমাদের সাহসী বাহিনীর জোয়ানরা খুশি হন। আমি শুনেছি যে, চারটি বাহিনীর জোয়ানরা এই অভিযানে ছিলেন। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় তো তারা এই ট্রেনিংগুলো পান। যখন অন্য প্রশ্ন ওঠে, তখন এটার সঙ্গে এই ট্রেনিংয়ের বিষয়টিও তোলা উচিত। আরেকটি বিষয় জানতে পেরেছি, আমাদের দেশে নাকি ইসরাইল থেকে থার্ড পার্টির মাধ্যমে সফটওয়্যার আমদানি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে একটি সর্বগ্রাসী সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা চালু করা হবে।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, আমাদের দেশে সাম্প্রতিক আইন এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্র এবং নাগরিকবিরোধী একটা জিনিস তৈরি হয়ে গেছে। সরকারের মনমানসিকতা এরকম যে, নাগরিককে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং তার জন্য যা যা প্রয়োজন তা করতে হবে। সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি বিষয় নিয়ে আসা হয়েছে তা হলো, অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট। এটা মূলত অনেক আগে থেকেই অকার্যকর ছিল। এর মধ্য দিয়ে সরকার আমাদের একটা বার্তা দিতে চায়। সুস্থ মানুষের পক্ষে এবং রাজনৈতিক দলের পক্ষে এই আইন করা সম্ভব না।

মানবাধিকার কর্মী খুশি কবিরের সঞ্চালনায় এবং অজয় রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজল্লাহ ,ওমর তারেক চৌধুরী , মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নিবার্হী প্রধান শাহীন আনাম , শিরিন হক প্রমূথ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here