মুরাদনগরে বৃদ্ধাকে রাইফেল দিয়ে পুলিশের আঘাত, সিইসির কাছে বিএনপি প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ

0
164

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের রাইফেলের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে জাহানারা বেগম (৬০)। গত সোমবার বিকেলে মুরাদনগরের লাজুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এখন হাসপাতালের ৫৪০ নং বেডে অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা: মাইনুল হাসান সোহেল, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ মশিউর রহমান এবং এনএম শাহজাহান এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশের এমন আচরণে এবং নেতাকর্মীদের ধরপাকড়াও বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের রাইফেলের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে জাহানারা বেগম (৬০)। গত সোমবার বিকেলে মুরাদনগরের লাজুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এখন হাসপাতালের ৫৪০ নং বেডে অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা: মাইনুল হাসান সোহেল, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ মশিউর রহমান এবং এনএম শাহজাহান এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশের এমন আচরণে এবং নেতাকর্মীদের ধরপাকড়াও বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে ডা: শাহজাহান বলেন, উনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। বাম দিকের কানের উপর কেটে যাওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। মাথার ভেতরে রক্ত জমা আছে কিনা সেটা সিটিস্ক্যান করানোর পর জানা যাবে। আর গলার একটি হাড় ভেঙ্গে গেছে। তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জুন্নুন বসরি তার নির্বাচনী এলাকা দক্ষিণ মুরাদনগরের বাপটিপাড়া ইউনিয়নের লাজুরে গণসংযোগে চালাতে যান। এ সময় হঠাৎ করেই পুলিশ রাসেল মুন্সি, হোসেন মুন্সি, সজিব মুন্সিকে আটকের পর মারধর করেন মুরাদনগর থানার এসআই কবির। এমন সময় আটকদের পুলিশ সিএনজিতে তুলে চলে যেতে চাইলে আটক হওয়া রাসেল মুন্সির মা জাহানারা বেগম এগিয়ে আসেন। তার ছেলে অপরাধী নয় কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে জানতে চান। এসময় পুলিশ সদস্যরা রাইফেলের বাট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এছাড়াও জোর পূর্বক আসামীদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যর গাড়ীতে ধাক্কা লেগে বুকের হাড় ভেঙ্গে যায়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

সূত্র জানায়, গ্রেফতারের ঘটনার পরের দিন সন্ধ্যায় এসআই কবিরে নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলাকারীরা জাহানপুর ইউনিয়নের ৬ বারের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তৈফিক মীরের বাড়িতে গিয়ে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় তার বাড়িতে নারী ও শিশু ছাড়া কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এসময় গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিলে চেয়ারম্যানের স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটয়ে পড়ে। এসময় হামলাকারীরা তাদের বাড়ীতে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং ৬/৭ ভরি স্বর্ণের গহণা লুটপাট করে।

গতশুক্রবার রাতে ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণার সময় ১১জন বিএনপির সমর্থককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা। বিএনপির এসব প্রচার কর্মীকে হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে দীর্ঘ সময় পর মুরাদনগর থানায় খবর পাঠানো হয়। পরে ওসি ফোর্স পাঠালে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা মিলে ওই ১১ জনকে থানায় নিয়ে যায়।

সিইসির কাছে লিখিত এক অভিযোগে বলেন, আমার সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও ভোটারদের বাড়ি গিয়ে হানা দিয়েছে। গত ২১ ডিসেম্বর ধানের শীষের প্রচারকালে আমার ১১জন নেতা কর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। গত ২০ ডিসেম্বর মুরাদনগরের পাহাড়পুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল শিকদারকে রাতের আধাঁরে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তার কাছে ১০টি ককটেল পাওয়া গেছে এমন কাল্পনিক, সাজানো অভিযোগে মামলা দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটছে। মুরাদনগর থানা ও বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। আমার প্রায় সব ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যালয় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে, কোন পথসভা ও উঠান বৈঠক করতে দেওয়া হচ্ছে না। নৌকার প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে নানা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে ও ষড়যন্ত্র করছে এবং সেই অনুযায়ী মামলা করছে। আমার জীবন নাশেরও হুমকী দেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার জন্য মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here