মৃতদেহ থেকে শুক্রাণু নিয়ে বিশ্বের প্রথম কন্যা শিশুর জন্ম

0
202

ব্রাজিলের একজন নারী অন্য এক মৃতদেহ থেকে শুক্রাণু গ্রহণ করে বিশ্বে প্রথম সফলভাবে কন্যা শিশু জন্ম দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। ইয়ন

দ্য ল্যান্সেট মেডিক্যাল জার্নালে এই ঘটনাটি প্রকাশ করে জানায়, যে নারী শুক্রাণুটি গ্রহণ করেছে তার শিরাগুলির সাথে দাতার জরায়ুর থেকে শরীরে শিরার সংযোগ স্থাপন করা হয় এবং ধমনী, লিগামেন্টস এবং যোনি ক্যানালগুলিকেও সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনিই হলেন বিশ্বের প্রথম যিনি মৃতার গর্ভাশয় নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করিয়ে, তা থেকে জন্ম দিলেন সন্তানের।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মস্তিষ্কের রক্তবাহ ফেটে মৃত্যু হয়েছিল ৪৫ বছর বয়সী এক মহিলার। প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টার অপারেশনের মধ্যে দিয়ে ওই মহিলার দেহ থেকে গর্ভাশয় বের করা হয়েছিল। তাঁর গর্ভাশয়ের ওজন ছিল ২২৫ গ্রাম। দাতা ওই মহিলা ইতিপূর্বেই তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। যে ব্রাজিলীয় মহিলার দেহে ওই গর্ভাশয়টি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। জন্ম থেকেই তাঁর দেহে গর্ভাশয় ছিল না। যাকে চিকিৎসার ভাষায় বলা হয় ‘মেয়ার রকিটান্সকি কাস্টার হাউজার সিনড্রোম’।

গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের প্রায় পাঁচ মাস পর গ্রহীতা মহিলার শরীরে অঙ্গ প্রত্যাখ্যান জনিত কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। আলট্রা সাউন্ড স্ক্যানের রিপোর্টও ছিল স্বাভাবিক। এমনকি তাঁর নিয়মিত ঋতুস্রাবও হচ্ছিল। এই লক্ষণগুলি দেখে চিকিত্সকরা কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন।

তবে ওই ব্রাজিলীয় মহিলার গর্ভাশয় না থাকলেও ডিম্বাশয় ছিল। তাই তাঁর ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু সংগ্রহ করে ‘আইভিএফ’ বা ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয়ে রোপন করা হয়েছিল ভ্রূণ। গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের সাত মাস দশ দিন পর এই ভ্রূণ রোপনের কাজটি হয়েছিল।

ব্রাজিলের জন্মগ্রহণকারী মেয়ে শিশুটিকে ৩৫ সপ্তাহ এবং তিনদিনে মধ্যে সিজার করা হয় এবং শিশুটি ২৫৫০ গ্রাম ওজনের হয়েছিলো।

ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের চিকিৎসক ড্যানি এজেনবারেগ জানায়, ২০১৬ সালে তার এক গবেষণায় প্রকাশ করেন ৩২ বছর বয়সী এমন নারী যার সন্তান হবে না তার ওপর ডিম্বাণু প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি প্রয়োগ করেছিলো। তিনি বলেন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিশু জন্ম দেয়া সম্ভব।

মৃতদেহ থেকে গর্ভধারণ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াটি এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, চেক প্রজাতন্ত্র এবং তুরস্ক দশবারের মত চেষ্টা করা হয়েছিলো কিন্তু প্রতিবারই জীবিত শিশু জন্ম দিতে ব্যর্থ হয়েছিলো।

কিন্তু বর্তমানে গর্ভ প্রতিস্থাপন নিয়মটি হলো, যে কোন পরিবার নিজ ইচ্ছায় অন্য কাউকে সন্তান জন্মদেয়ার জন্য ডিম্বাণু বা শুকাণু দিতে পারবে। সন্তান হয়না এমন নারীর জন্য এ শর্ত প্রযোজ্য নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here