মৃত স্কুলছাত্রীর জীবিত ফেরা: ২ তদন্ত কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব

0
56

নারায়ণগঞ্জে ‘ধর্ষণ ও হত্যার’ শিকার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। সাবেক তদন্ত কর্মকর্তাকে এ ঘটনার ব্যাখ্যাসহ ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে হাজির হতে হবে।

একই দিন মামলার নথিসহ হাজির হতে হবে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে।

পাঁচ আইনজীবীর করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ আদেশ দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার পাঁচ আইনজীবী আবেদনটি করেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য একই হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। আবেদনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা এবং মামলা পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা এবং যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়া ওই মামলার নথি তলবেরও আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ওই পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে এ আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ আইনজীবী হলেন- আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন, মো. জোবায়েদুর রহমান, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আল রেজা আমির এবং মো. মিসবাহ উদ্দিন। গত ২৪ আগস্ট ‘ধর্ষণের পর নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়া স্কুলছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তনের’ খবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হাইকোর্টের নজরে আনেন।

তখন আদালত আইনজীবী শিশির মনিরকে লিখিতভাবে আবেদন করতে বলেন। শিশির মনির জানান, এরপর মঙ্গলবার একটি রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণী উল্লেখ করে শিশির মনির জানান, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব এবং খলিল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিতে তারা বলেন যে তারা ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন।

জবানবন্দি নেওয়ার পর আসামিদের জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট ওই ছাত্রীকে খুঁজে পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, যেখানে ওই ছাত্রী অক্ষত অবস্থায় ফেরত এসেছে? আইনজীবী শিশির মনির আরও জানান, রিভিশনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলা এবং মামলা পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা এবং যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনে আদালতে ওই মামলার নথি তলব করে পরীক্ষা করে উপযুক্ত আদেশ দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে। আবেদনে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বাদী এবং আসামিদের বিবাদী করা হয়েছে। সূত্র: বাংলানিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here