মেঘনায় পানি কমলেও থেমে নেই ভাঙ্গন, বিলীন হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ

0
16

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর গ্রাম। মেঘনার নদীর ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার পানিশ্বর গ্রামটি। চলতি বর্ষা মৌসুমের পানি ধারাবাহিক ভাবে কমতে থাকলেও প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গ্রামটির বসতবাড়ি-বাজার ও চাতালকল। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো এখন ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার পানিশ্বর ইউপিতে পানিশ্বর গ্রাম ও বাজার। মেঘনার তীর ঘেষে গড়ে উঠা প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এ বাজারে রয়েছে প্রায় কয়েক শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ২০/২৫ টি চাতালকল ও কয়েক শতাধিক বসত বাড়ি। এ গ্রামের পাশ দিয়ে মেঘনা নদী প্রবাহিত হওয়ায় প্রতি বছরই ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে ছোট হয়ে আসছে গ্রামের পরিধি। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভাবে বালু ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ঘর-বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে নিস্ব হচ্ছে শতশত অসহায় পরিবার।

চলতি সপ্তাহে অব্যাহত ভাঙনের মুখে পড়ে নি:স্ব হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। ভাঙনরোধে পরিকল্পিত কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় কমছে না ভাঙনের মাত্রা। এক রাতেই মেঘনায় বিলিন হয়েছে প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা। সেচ্ছাশ্রম আর নিজ উদ্যোগে ভাঙনরোধে বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনি নির্মাণ করছেন স্থানীয়রা। তাই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সরকারের সহযোগিতা ও ভাঙনরোধে গ্রামটির চার পাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। পানিস্বর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তফা মিয়া জানান, প্রায় তিন বছর ধরে এই এলাকাটিতে ভাঙন চলছে। কিছু সংখ্যক জিও ব্যাগ ফেলা হলেও রোধ হচ্ছে না ভাঙন। তাই ভাঙনরোধে দ্রুত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি এখন সবার।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রঞ্জন কুমার দাস বলেন, দ্রুত ভাঙ্গন রোধে আমরা দুই/একদিনের মর্ধ্যেই কাজ ধরব। স্হায়ী কাজের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপএ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করব। সূত্র: আমাদের সময়.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here