যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থিদের জন্য নতুন ভিসা প্রস্তাব

0
233

যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থিদের জন্য নতুন ভিসার প্রস্তাব দিয়েছে ইউনিভার্সিটিজ ইউকে। নতুন ওই প্রস্তাবিত ‘ওয়ার্ক ভিসা’র মাধ্যমে এবার থেকে শিক্ষার্থিরা স্নাতক হওয়ার পর দু’বছর পর্যন্ত ব্রিটেনে চাকরি করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারবেন।

ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েল্স এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ১৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ মঞ্চ হল ইউনিভার্সিটিজ ইউকে। তাদের কাজই হল, ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। সব ক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানরাই এই সংগঠনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সিটিজ ইউকে’র বার্ষিক সভা আয়োজিত হবে শেফিল্ডে। তারই প্রস্তুতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এদিন একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানেই আলোচনায় এই নতুন ভিসার প্রস্তাবটি উঠে আসে।

ইউনিভার্সিটিজ ইউকে’র প্রেসিডেন্ট তথা লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রফেসর ডেম বিয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোথায় পড়ব, তা বিচার করার সময় আন্তর্জাতিক পড়ুয়ারা একাধিক দিক খতিয়ে দেখেন। সেখানে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করার ছাড়পত্র নিঃসন্দেহে তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই নতুন এই গ্র্যাজুয়েট ভিসা চালুর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। যাতে আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের কাছে ব্রিটেনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।’ ইনস্টিটিউট অব স্টুডেন্টস এমপ্ল্যার -এর চিফ এগজিকিউটিভ স্টিফেন ইশারউড বলেন, ‘প্রতিভাবান আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এদেশে চাকরি করার ছাড়পত্র দিলে চাকরিদাতারাই আখেরে লাভবান হবেন। এতে দক্ষ শ্রমিকের শূন্যস্থান যেমন সহজেই পূরণ করা যাবে, তেমনই ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাজারে এগিয়ে থাকতে পারবে।’

অতীতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থিদের জন্য এই ভিসার সংস্থান থাকলেও ২০১২ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বহির্ভূত দেশগুলির পড়ুয়াদের জন্য তা বাতিল করে দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। বহু শিক্ষার্থিই ব্রিটেন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন। ইউনিভার্সিটিজ ইউকে এবার সেই ভিসা ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এর ফলে ব্রিটেনজুড়ে চাকরিদাতারা এবার মেধাবী এবং দক্ষ পড়ুয়াদের নিয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলি, বিশেষ করে যাঁদের টিয়ার ২ স্পনশরশিপ লাইসেন্স নেই, তাঁরাও দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এতে লাভ হবে ব্রিটেনেরও। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো অপেক্ষাকৃত সরল ভিসা-নীতি সম্পন্ন দেশগুলির সঙ্গে সমান টক্কর দিতে সুবিধা হবে ব্রিটেনের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here