যে প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার

0
300

গণমাধ্যম ডেস্ক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বিচার সচারচর হত্যাকাণ্ডের মতো অতটা সহজ ছিলনা। কারণ ১৯৭৫ সালে হত্যাকাণ্ড পরবর্তী সরকারগুলো বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার না করে বিভিন্ন সময় পুর্নবাসন করেছে। বঙ্গবন্ধু খুনের পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে চাকরি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুনিদের বিচারের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘপথ পরিক্রমা শেষে ২০১০ সালে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ রায় কার্যকরের আগে ২০০১ সালে একজন আসামি আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

বাকী ছয়জন পলাতক রয়েছেন। এরা হলেন- এম রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, আব্দুল মাজেদ ও মোসলেহউদ্দিন খান।

সরকারের তথ্য মতে, রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং নূর চৌধুরী কানাডায় আছেন। খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, আব্দুল মাজেদ ও মোসলেহউদ্দিন খান সম্পর্কে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রকার তথ্য নেই।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য যদি  আমরা পাবলিক করি, তাহলে তারা তা জানার পর তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে। সেক্ষেত্রে আমরা যে তথ্যের ভিত্তিতে এগোচ্ছি, সেই তথ্য আর সঠিক থাকবে না।

দায়মুক্তি আইন বাতিলের পর ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ততকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল মামলার রায়ে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভক্ত রায় দেন। রায়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম রুহুল আমিন ১৫ আসামির ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। খালাস দেন পাঁচ আসামিকে। অপর বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ১৫ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
নিয়ম অনুযায়ী ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। খালাস দেন তিনজনকে।

আসামিদের আবেদনের পর ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্ব তিন বিচারপতির বেঞ্চ পাঁচ আসামির আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট আপিল শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওই বছরের ৫ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন। আপিল শুনানির জন্য ততকালীন প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন ওই বছরের ৪ অক্টোবর বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। শুনানি শেষে ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

এরপর আসামিদের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনও ২৭ নভেম্বর খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে ৫ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here