যোগ দেয়ার কথা থাকলেও আসেননি এ কে খন্দকার, সালাম ঐক্যফ্রন্টে

0
258

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নেতা ও সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার আসেননি যোগদান অনুষ্ঠানে। তবে একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম আনুষ্ঠানিকভাবে গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। রোববার দুপুর ২টার পর জাতীয় প্রেসক্লাবে তিনি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নাম লেখান। এ সময় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন তাকে স্বাগত জানান। গণফোরামের এক নেতা জানান, আবদুস সালাম আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন।

প্রসঙ্গত, গণফোরামে যোগ দেয়া একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালামের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে পুলিশ বিদ্রোহের অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ ও পর্নোগ্রাফি মামলা এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, মেজর জেনারেল (অব.) আমছা আমিন কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকেরও দায়িত্বপালন করেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন অনিশ্চিত দেখে তিনি শনিবার দুপুরে ঢাকায় গণফোরামে যোগদান করেই দলের মনোনয়ন ফরম কেনেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনি ওই আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন।

গত ১৮ নভেম্বর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে আনুষ্ঠানিকভাবে গণফোরামে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া। পরের দিন, ১৯ নভেম্বর গণফোরামে যোগ দেন অবসরপ্রাপ্ত ১০ সেনা কর্মকর্তা।

তারা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শেখ আকরাম আলী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. শহিদুল্লাহ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ ফ ম নুরুদ্দিন, মেজর (অব.) মাসুদুল হাসান, মেজর (অব.) মো. ইমরান, মেজর (অব.) বদরুল আলম সিদ্দিকী, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) ফোরকান আলম খান, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মো. হাবিব উল্লাহ, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মো. মাহমুদ।

এর আগে বেলা ১২টায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জোটবদ্ধভাবে’ লড়তে শরিকদের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠকে বসে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্ব।

রোববার বেলা ১২টায় মতিঝিলে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এই বৈঠক শুরু হয়েছে। কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের মোস্তফা মহমিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর।

অপরদিকে বিমানবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এ কে খন্দকার। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন ও উপপ্রধান সেনাপতি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন এ কে খন্দকার। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৮৬ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯০ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি এরশাদ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার বাংলাদেশ সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হন। ২০১৪ সালে তার বই ‘১৯৭১ :ভেতরে বাইরে’ প্রকাশিত হয়। এতে প্রকাশিত কিছু তথ্যের কারণে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ আনেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here