রবির বিজ্ঞাপনে কলরেটের সঙ্গে প্রার্থনার তুলনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

0
172

বাংলাদেশের অন্যতম মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি তাদের বিজ্ঞাপনে ইসলাম ধর্মের শিক্ষার ভুল উপস্থাপনা করে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ঈদ উপলক্ষে প্রচারিত রবির এক বিজ্ঞাপনের শুরুতে দেখা যায়, নামাজের ইকামত হচ্ছে- ‘কাদকামাতিস সালাহ, কাদকামাতিস সালাহ। আল্লাহু আকবার- আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। ওই সময় রবির ট্রেডমার্ক লাল পাঞ্জাবি গায়ে, টুপি মাথায়, হাতে জায়নামাজ নিয়ে মডেল মসজিদে ঢুকে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়ান। তখন একজন রিকশাওয়ালা আসেন মসজিদে। কিন্তু রিকশাওয়ালা নামাজে অংশ নেওয়ার জন্য মসজিদের গেটে এসে থমকে দাঁড়ায়। সে ভাবতে থাকে ভেতরে যাবে কি যাবে না, কিংবা ভেতরে যেয়ে সে কোথায় দাঁড়াবে? এমন সময় রবির মডেল তাকে তার পাশে, একই জায়নামাজে নামাজে দাঁড়ানোর জন্য ইশারা করে। রিকশাওয়ালা খুশি মনে তার পাশে গিয়ে নামাজে দাঁড়ায়।
আর তখন স্ক্রিনে ভেসে উঠে ও বলতে শোনা যায়- ‘আপনার প্রার্থনার মতোই ভেদাভেদ নেই রবি কলরেটেও! রবিতে আসলেই সারাদেশে এক রেট…’

বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর থেকে নানা মহল থেকে কথা উঠছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অনেকে পত্রিকা অফিসে ফোনও করেছেন। ইবাদতকে কলরেটের সঙ্গে তুলনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও।

রবির এই বিজ্ঞাপনের চিত্রায়ন, বক্তব্য ও তুলনা ইত্যাদি নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপনে মসজিদকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে, মসজিদে নিম্ন আয়ের মানুষ যেতে ইতস্তত বোধ করছেন। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন। ইসলামের শুরু থেকে মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত। নামাজের জামাতে একইসঙ্গে আমির-গরিব, ছোট-বড়, কর্তা-কর্মচারী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। মুসলমান মাত্রই এটা জানেন, মানেন ও বিশ্বাস করেন। এটা ইসলামের রীতিও বটে। সেখানে দেখানো হলো- নিম্ন আয়ের এক রিক্সাওয়ালা নামাজ পড়তে ইচ্ছা করছেন, কিন্তু তিনি কোথায় দাঁড়াবেন- এটা নিয়ে ইতস্তত বোধ করছেন। এই ভুল ম্যাসেজ কেন?

অন্যদিকে নামাজের মতো একটি ফরজ ইবাদতকে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক হয়েছে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। রয়েছে ভাষা নিয়েও কথা। বলা হচ্ছে, ‘আপনার প্রার্থনার মতোই ভেদাভেদ নেই রবি কলরেটেও!’ কোথায় নামাজ আর প্রার্থনা আর কোথায় রবির কলরেট! এটা কী করে এক হলো?

রবির ফেসবুক পেইজে এটা নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে, দাবি উঠেছে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের। তাদের ফেসবুক পেইজে সেলিম রাজু নামের একজন লিখেছেন, ‘ইবাদতের সাথে তুলনা করলে, এটা কেমন মানসিকতা? … এই প্রথম দেখলাম ইবাদতের সাথে ব্যবসাকে তুলনা করলো। হ্যাঁ, হালাল ব্যবসাও একটি ইবাদত বটে তবে এ ব্যবসাটা সে স্তরে পড়ে না।’

মীর আবু জুবায়ের নামের একজন লিখেছেন, ‘এ কেমন এড, কোথায় নামাজ আর কোথায় রবি। আমি কী বলতে চাইছি আশা করি- বুঝতে পেরেছেন। দয়া করে ভুলভাল এড দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন আশা করি।’

চাদনি মুন হাসান লিখেছেন, ‘বুঝলাম না তাই বলা, প্রার্থনার সাথে কলরেটের তুলনা! ইতরামির একটা সীমা থাকা দরকার। ধর্মকে খুব সহজেই ব্যবসার কাজে লাগানো যায়, না?’

গোলাম মোস্তফা মাসুম লিখেছেন, ‘জাস্ট ফর ফান, এই রিকশাওয়ালা মনে হয় প্রথমবার মসজিদে গেছে। তা না হলে আমাদের ইসলামে মসজিদে সবাই সমান। লোকটি এমনভাবে অবাক হলো- যেন এটা অবাস্তব। সে জীবনে এমন ঘটনা দেখেনি। ইসলাম পৃথিবীর একমাত্র শান্তিময় পরিপূর্ণ ধর্ম।’

আমরা আশা করি, শুধু রবি নয়; যেকোনো প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনে এভাবে ধর্মকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে। আর যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো তদারকি করবে। সূত্র : বার্তা২৪.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here