রাজবন্দিদের মুক্তিতে আপত্তি নেই: কাদের

0
168

‘রাজবন্দিদের’ মুক্তির ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই এবং বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া তালিকা আইনমন্ত্রীকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যদি সত্যিকারের রাজবন্দি হয় তাহলে সেটা (তালিকা) আইনমন্ত্রীর হাতে আমাদের নেত্রী তুলে দিয়েছেন এবং আইনমন্ত্রীকে বলা হয়েছে তদন্ত করে যারা সত্যিই রাজবন্দি তাদের মুক্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে কোনো আপত্তি নেই।’

এছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবি মানা হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রীরাও নিজের এলাকায় পতাকা, গাড়ি, সরকারি সার্কিট হাউজ কিছুই ব্যবহার করবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা বলছেন যে, তারা সংবিধানের মধ্যেই প্রস্তাব দিচ্ছেন, কিন্তু বিষয়টা তো সংবিধানের বাইরে। এখানে তাদের প্রস্তাবের মধ্যেই বিরাট একটা গ্যাপ আছে। তারপরেও আমার কাছে মনে হয় যাওয়ার বেলায় তাদের অনেকটা নমনীয় মনে হয়েছে, তাদের কথাবার্তা আচার-আচরণ।’

এরকম আর কোনো আলোচনার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে এবং এরসঙ্গে আলোচনাও চলতে পারে। তবে সংলাপ শেষ।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগে এবং ১৪ দলের পক্ষে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১১ সদস্যদের প্রতিনিধি দল। ড. কামালের নেতৃত্বে এ বৈঠকে যোগ দেন বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতাসহ ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতা।

বেলা এগারোটায় এ বৈঠকের শুরুতেই সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করায় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ধন্যবাদ জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। বিএনপি মহাসচিব আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের হাতে তুলে দেন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তালিকা।

বৈঠকের ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সবার জন্য সমতল ভূমি এবং নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের দাবিনামা উপস্থাপন করা হয়। এজন্য নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে কিংবা মার্চে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করেন ঐক্যের নেতারা।

সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের সব দাবি মেনে নেয়া সম্ভব হলেও নির্বাচন পেছানোর দাবি মানা হবে অযৌক্তিক।

তিনি বলেন, ‘তারা যে সাত দফা দাবি দিয়েছেন তার বেশিরভাগই মেনে নিতে আমাদের নেত্রী, দলনেতা শেখ হাসিনা সম্মত হয়েছেন। কিন্তু তারা আজকে এমন কিছু বিষয় নিয়ে এসেছে যার মাধ্যমে এটা পরবর্তী ৯০ দিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য, ফাঁক ফোকর হয়তো করে দেয়া হচ্ছে যেখান থেকে তৃতীয় কোনো অপশক্তি এসে ওয়ান ইলেভেনের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটাতে পারে।’

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তোফায়েল আহমেদ বলেন, সময় মতোই তফসিল ঘোষণা হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শেষ হলেও আলোচনা চলবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতারা। সময়

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here