রাত কি কেটে যাবে ঘুমে ঘুমে?

0
726

ন্ধ্যার মুগ্ধতায় ভর করে পৃথিবীতে নেমে আসা রাত যেমনই রহস্যময় তেমনই সৌন্দর্যে আধার। বেলা শেষের আকাশ যখন কালো রঙের আবরণে সাজে, তখনই কালো আকাশের গায়ে জ্বলে ওঠে লক্ষ কোটি নক্ষত্রের রুপালি আলো। আকাশের গায়ে প্রজ্বলিত এইসব নক্ষত্র খচিত বেনারসি রাতের আকাশকে করে আরও সৌন্দর্যময়। সেই সৌন্দর্যে মাঝে রুপালি আলোর পসরা সাজায় পূর্ণিমার রূপ ঝলমল চাঁদ। চাঁদের সেই নির্মল আলো বৃক্ষের পাতার ফাঁক গলিয়ে লুটোপুটি খায় পবিত্র মৃত্তিকার নরম দেহে। আর জ্যোৎস্নার অজ¯্র ধারা প্রকৃতির বুকে জাগিয়ে তোলে এক মোহময় রূপমাধুরী।

সে রূপমাধুরীর কোমল পরশে মুমিন বান্দার মনের গহীনে জেগে ওঠে প্রভুপ্রেমের অনন্য উচ্ছ্বাস। তাই তো রাতের নির্জনে আল্লাহর এই প্রিয় বান্দারা সিজদায় লুটিয়ে পড়েন প্রভুর কুদরতি কদমে। এই প্রেম পবিত্র প্রেম, এই প্রেম একান্তই ¯্রষ্টা এবং সৃষ্টির গোপন অভিসার। এ প্রেম তাদেরকে কুফরের প্রবল আক্রমণের মুকাবিলায় অটল রাখে। বিজয়ীর মালায় ভূষিত করে। যেমন ভূষিত হয়েছিলেন বদরের সেই সৌভাগ্যবান মুজাহিদগণ।

বদরের ময়দানে সত্যের ফুল ফোটাতে নিরস্ত্র মুজাহিদগণের অতুলনী গুণসমূহেরর মধ্যে এটিও ছিল একটি বিশেষ গুণ। মুজাহিদগণ রাতের শেষ প্রহরে জেগে ওঠে চোখের পানি ফেলে কাঁদতেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে গুনাহ থেকে মাফ চায়তেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের সে কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করে বলেন, এসব লোক অগ্নি পরীক্ষায় অটল ও অচল, সত্যের অনুরাগী, পরম অনুগত, আল্লাহর পথে মাল উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থী।’ (সূরা : আলে ইমরান, ১৭)

অথচ আমরা অনেকেই আছে, যারা এই রাতকে ক্ষমা পাওয়ার পরিবর্তে পাপের নিয়ামক বানিয়ে নিই। রাত যতো গভীর হয় আমাদের পাপাচার যেন ততোই বেগবান হয়। অহেতুক গল্পগুজব, পরনিন্দা বা অনৈতিক কথাবার্তায় লিপ্ত থাকি। সমাজের বেশির ভাগ মানুষই এর সাথে জড়িত। রাতে বন্ধুদের সঙ্গে অযথা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, আর যারা বাইরে যায় না, তারা ঘরে বসে ইন্টারনেটে সারা দুনিয়া চষে বেড়ায়।

আচ্ছা আমরা কি পারি না? এই নির্জন নিশিকে শুধু ঘুম কিংবা পাপাচারে নষ্ট না করে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁরই কুদরতি পায়ে অবনত মস্তকে লুটিয়ে পড়তে। রাতের দ্বী প্রহরে জেগে ওঠে দুই চার রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে?। এখন তো রাত যথেষ্ট বড় এবং নাতিশীতোষ্ণ। ইচ্ছে করলেই আমরা পরিমাণ মতো ঘুমিয়েও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হতে পারি। রাত ১০ টায় ঘুমিয়ে পড়লে রাত চারটায় সহজেই জাগা যায়। এতে ৬ ঘন্টা ঘুমও হবে। আবার তাহাজ্জুদও পড়া যাবে। তাহাজ্জুদের ফজিলত বর্ণনাতীত। এর ফজিলত প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করুন; এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে)। ’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৭৯)। তিনি আরও বলেন, ‘তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাক্সক্ষা ও আশঙ্কার সঙ্গে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদের যে রুজি প্রদান করেছি, তা থেকে তারা দান করে। ’ (সূরা সিজদা : ১৬)।

তাই আসুন! আমরা অহেতুক গল্প, ঘুম আর পাপাচারে রাতকে পার না করে রাতটিকে কাজে লাগাই। এটাই যে মুমিনদের বেশিষ্ট্য।কেন না প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের অন্তর্নিহিত গোপন কথার জন্য রাতের এই নির্জনতা থেকে অধিক উপযোগী সময় আর হতে পারে না। তাই এমন তারাভরা রাতে রুপালি চাঁদের ইন্দ্রজালে মুগ্ধ হয়ে এই রাত এবং রাতের প্রকৃতি নিয়ে আজ একটু ভাবি। আচ্ছা এমন সুন্দর একটি রাতকে উপেক্ষা করা কি ঠিক হবে। বলুন না! এ রাত কি কেটে যাবে ঘুমে অলসে?

লেখক : ইমাম ও খতিবব, কসবা রেল স্টেশন জামে মসজিদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here