রাষ্ট্রপতির ভাষণে হাস্যরস!

0
347

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রায় ১ ঘন্টার ভাষণে বিশ সহস্রধিক মানুষ ভরদুপুরের ক্ষুধা-পিপাসার কথা যেন ভুলেই গিয়েছেন। তার নির্ধারিত লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি রাজনীতি, প্রেমের একাল সেকাল, সমাজ বিনির্মাণ, পুরুষ নির্যাতন আইন, শিক্ষা ব্যবস্থা, ডাকসু নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে মজাদার করে উপস্থাপন করেন তার বক্তব্য।
তিনি গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে তার এ ভাষণ প্রদান করেন। তার পুরো ভাষণের চুম্বক অংশগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন।

‘গরীবের সুন্দরী বউ সবার ভাউজ’

রাস্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, গ্রামে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, ‘গরীবের সুন্দরী বউ সবার ভাউজ’। তিনি উল্লেখ করেন, ভাউজ মানে ভাবী।
তিনি বলেন, আজকে যদি আমি বলি আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করতে চাই, তাহলে ভিসি সাহেব তো আমাকে নিয়োগ দিবেন না। আমার এত বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কিন্তু কোন কাজে লাগলো না। অথচ ভিসি সাহেব এখান থেকে অবসর গ্রহণ করে গিয়ে রাজনীতি করতে পারবেন, এমপি হলেও তাতে কোন বাধা নেই। একইভাবে সাবেক সেনা প্রধান, পুলিশ প্রধানও রিটায়ার্ড করে তো এমপি হতে পারেন। ব্যবসায়ীরা তো আছেনই। কারণ, রাজনীতিটা হলো ‘সবার ভাউজ’র মত।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাজনীতি এত সোজা নয়। যারা রাজনীতি করতে চান, তারা বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আসুন। এমবিবিএস পাস করে ডাক্তারি পেশায় না গিয়ে রাজনীতিতে যোগ দিন, রাজনৈতিক দলগুলোকে শিল্পপতি-ভগ্নিপতিদের(!) পরিহার করার বিষয়ে ভাবতে হবে। তাহলে রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে বঙ্গভবনে আসতে দিলেন না আমার স্ত্রী’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে বঙ্গভবনে আসতে দিলেন না আমার স্ত্রী। তিনি বলেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবেন। কিন্তু আগের দিন প্রিয়াঙ্কার আগমনের খবর আমি আমার স্ত্রীকে বললাম। পরে শুনলাম আমার স্ত্রী নাকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কি বঙ্গভবনে না আসলে হয় না? পরে দেখি তার বঙ্গভবনে আসার প্রোগ্রাম বাতিল হয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র ২দিন আগে আমাদের ৫৪তম বিবাহবার্ষিকী হলো। এতো বছরেও তার আমার সম্পর্কে কী জানার বাকী থাকলো? পরে শুনলাম প্রিয়াঙ্কা নাকি আমেরিকায় গিয়ে তার চেয়ে ১০ বছরের ছোট একজনকে বিয়ে করেছেন। যদি ১০ বছরের ছোট কাউকে বিয়ে করা যায়, তাহলে ৩০-৩৫ বছর সিনিয়রকেও করা যেতো। তাহলে তো আর সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে তাকে আমেরিকায় যেতে হতো না। তিনি উল্লেখ করেন, সবই কপাল।

‘পুরুষ নির্যাতন আইনের কথা বলেছিলাম’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমি যখন স্পিকার ছিলাম, নারী নির্যাতন আইন যখন পাস হচ্ছিল, তখন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পুরুষ নির্যাতন আইনের কথা বলেছিলাম। কারণ, ঘরে ঘরে যেভাবে পুরুষরা নির্যাতিত হচ্ছে, এটা নিয়ে একটা আইন আসলেই দরকার।

‘আপনারা প্রেমপত্র লেখা আবার শুরু করেন’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আপনারাতো প্রেমপত্র লেখা বোধ হয় ভুলেই গিয়েছেন। আপনারা ফেসবুক এর ইনবক্সে গিয়ে প্রেমের অমরত্বকে ম্লান করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবার প্রেমপত্র লেখা শুরু করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রেম, ভালবাসা, সম্পর্ক, সম্পর্কের বন্ধনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে আমরা এখন আর দেখা সাক্ষাত করতে চাই না। ফলে সম্পর্কের একাল সেকালে অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। সম্পর্কের বন্ধনকে আরো শক্তিশালী করতে তিনি দেখা-সাক্ষাতের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমার দুই বছরের নাতি ভাত খাবে না। যখনই তাকে মোবাইলে গেম বা কার্টুন দেয়া হয়, তখনই সে ভাত খায়। তিনি বলেন, শিশুদেরকে অধিক পরিমান মোবাইল ফোনে অভ্যস্ত করবেন না। তাদেরকে মোবাইল ফোনের অতিমাত্রায় ব্যবহার থেকে দূরে রাখবেন।

রাষ্ট্রপতির রসালো এই বক্তব্যগুলো দর্শক শ্রোতাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ হাস্যরসের জন্ম দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here