রায় নিয়ে যা বললেন আ.লীগ নেতারা

0
174

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। কেউ বলছেন এই রায় ঐতিহাসিক আবার কেউ রায়ে পুরো সন্তুষ্ট নয়। রায়ে লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই রায়ে অখুশি নই। কিন্তু পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। কারণ এই রায়ে প্ল্যানার এবং মাস্টারমাইন্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি দরকার ছিল, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে যুগান্তকারী এবং একটি ঐতিহাসিক রায় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, স্বচ্ছ বিচার হয়েছে বলেই গ্রেনেড হামলা মামলায় কারও ফাঁসি, কারো যাবজ্জীবন হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে সুবিচার নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ফাইনাল খেলা। সেই খেলায় বিএনপিকে গোল দেবে আওয়ামী লীগ।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে দোষীদের শাস্তি হওয়ায় ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতেই হয়।

একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সেনাবাহিনী যুদ্ধে যে গ্রেনেড ব্যবহার করে ও সরকারের অস্ত্রাগারে যে গ্রেনেড থাকে সেই গ্রেনেড সেখানে ফাটানো হয়েছিল। জেলখানার মধ্যে গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। সুতরাং বেগম জিয়ার জ্ঞাতসারেই এই হামলা হয়েছে। তাই এই হামলার মামলায় বিচারের আওতায় বেগম জিয়াকেও আনার দাবি আমরা প্রথম থেকেই করে আসছিলাম।

রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিচারের রায়ে যদি বেগম জিয়াকে শাস্তির আওতায় আনা না হয় তাহলে রাষ্ট্রপক্ষকে অনুরোধ জানাবো আপিল করা হোক। বেগম জিয়া এই হত্যার দায় এড়াতে পারেন না।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হত্যা ছিল ইতিহাসের ঘৃণ্য সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। একটি রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এ হামলা, হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলো।

এদিকে রায়ে সন্তুষ্ট নয় ছাত্রলীগ। তারা দাবি জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে ফাঁসি দেয়া এবং লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে তা কার্যকর করা। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের যাওয়ারও হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুর শোভন বলেন, রায়ে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানকে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন দেয়ায় আমরা সন্তুষ্ট নই। এ বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে স্মারকলিপি দেব এবং দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here