রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি, আলোচনায় আগ্রহী নয় আওয়ামী লীগ

0
155

গামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি। রূপরেখার কাজ শেষ হলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে রূপরেখাটি তুলে দিতে চায় দলটি। রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিয়ে দ্রæত সময়ের মধ্যে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাবে বিএনপি। এই রূপরেখায় নির্বাচনকালীন সরকারের তিন মাস প্রধানমন্ত্রীকে ছুটিতে থাকার প্রস্তাব করা হবে। টেকনোক্র্যাট কোটায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাখারও প্রস্তাব করা হবে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়। দলটির এবারের ইশতেহারে ২০৪১ সালকে সামনে রেখে আধুনিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসন ও সেবাখাতের বিকেন্দ্রিকরণকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এইচ. টি. ইমাম। তবে ইশতেহার তৈরিতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা সেটিই এখনো চূড়ান্ত নয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব নাকচ করে দিলেও হাল ছাড়বেন না তারা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য উদ্যোগ নেবেন বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানাবেন তারা। তাদের মতে, অতীতে দেশের
যে কোনো সংকটে অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতিরাই বড় ভূমিকা পালন করেছেন; রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারা আশা করেন, রাষ্ট্রপতি দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনায় সংকটের একটি সমাধানের পথ বের করবেন।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দশম সংসদের শেষ অধিবেশন বসবে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকলেও ভোটের আগে অনিবার্য কোনো প্রয়োজন ছাড়া আর অধিবেশন বসবে না। বিএনপি আশা করে, সংসদ অধিবেশন চলাকালেই রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন। সবার সঙ্গে আলোচনায় ঐকমত্য হলে প্রয়োজনে ওই অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনের ব্যবস্থা করবেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। অতীতের মতো আমরা যদি এক হতে পারি, তাহলে সংবিধান সংশোধন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। নির্বাচনের আগে একটা সহায়ক সরকার প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের সে সাহসও নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here