রোগীদের হত্যা করার নেশা ছিল হ্যোগেলের

0
190

নাম নিলস হ্যোগেল। বয়স ৪১। পেশায় নার্স। সেবাই তার ধর্ম। রোগীর প্রাণ বাঁচাতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেওয়া তার নৈতিক কর্তব্য। অথচ, প্রাণ বাঁচানোর বদলে রোগীর প্রাণ নেওয়া ছিল তার নেশা। শতাধিক রোগীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পর অবশেষে ধরা পড়লেন জার্মানির এই সিরিয়াল কিলার। খুনের দায়ে হ্যোগেল এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত।

হ্যোগেলের হাতে প্রাণ যাওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সি ব্যক্তিটির বয়স ছিল ৩৪, আর সবচেয়ে বেশি বয়সের রোগীর বয়স ছিল ৯৬। ঊর্ধ্বতনদের কাছে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে কিংবা একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে হ্যোগেল এ কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলিরা।

কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতেন হ্যোগেল? জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের শরীরে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতেন তিনি। এতে হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে বা শরীরে রক্তচাপ কমে রোগী মারা যেত। ২০০৫ সালে ডেলমেনহোর্স্টে এক রোগীকে চিকিৎসক দেননি এমন একটি ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে গিয়ে হ্যোগেল প্রথম ধরা পড়েন।

২০০৮ সালে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়। তার অপরাধের বিস্তৃতি জানতে ২০১৪ সালে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শুরু হয় নতুনভাবে বিচারকাজ। কমিশন শত শত মেডিকেল রেকর্ড পরীক্ষা করে। কবর থেকে তুলে আনা হয় ১৩৪টি দেহাবশেষ। তাদের শরীরে প্রয়োগ করা ওষুধের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। তবে অনেক রোগীর মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলায় তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে দুই রোগীকে হত্যা এবং আরও দুইজনকে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে হ্যোগেল দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, হ্যোগেলের অপরাধের শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। এরমধ্যে গত মঙ্গলবার আরও ১০০ জন রোগীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। সূত্র :আলজাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here