রোনালদো ছাড়া রিয়াল এতটা ভোঁতা

0
158

হাতের আঙুল দিয়ে কখনো সূর্যকে ঢেকে রাখা যায়? যায় না। সেই কাজটি অসম্ভব বলেই সত্য স্বীকার করে নিলেন কেইলর নাভাস। চ্যাম্পিয়নস লিগে কাল মৌসুমের প্রথম অঘটনের শিকার হয়েছে তাঁর দল রিয়াল মাদ্রিদ। সিএসকেএ মস্কোর মাঠে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। হারের পর দলটির কোষ্টারিকান এই গোলরক্ষক স্বীকার করে নেন, ক্লাবের সদর দরজা দিয়ে প্রস্থান করা সেই ‘সূর্য’-এর অভাবটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে রিয়াল। বলা বাহুল্য, সেই ‘সূর্য’—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

রোনালদো থাকতে কখনো এমন হয়নি। তখন এতটা ভোঁতা ছিল না রিয়ালের আক্রমণভাগ। রাশিয়ান ক্লাবটির বিপক্ষে কালকের হার সহ মোট ৩১৯ মিনিট গোলশূন্য রিয়ালের আক্রমণভাগ। ম্যাচের হিসেবে হুলেন লোপেতেগির শিষ্যরা গোল করতে পারেনি টানা তিন ম্যাচ। রোনালদো রিয়ালে থাকতে কখনো টানা তিন ম্যাচ গোলশূন্য থাকেনি রিয়াল। ক্লাবটিকে টানা তিন মৌসুম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো এই তারকা গত জুলাইয়ে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছিল, তাঁর শূন্যতা পূরণ করতে পারবে রিয়াল? মৌসুমের শুরুতে কথাটা সেভাবে পাত্তা না পেলেও এখন কিন্তু তা ক্রমশ চোখ রাঙাচ্ছে।

লা লিগায় সেভিয়ার মাঠে ৩-০ গোলে হারের পর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছিল রিয়াল। এরপর কাল তাঁরা মস্কোর মাঠে নেমে থিতু হওয়ার আগেই গোল হজম করেছে। সেটিও বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারের ভুলের খেসারত গুণে। ৬৫ সেকেন্ডের মাথায় ডান প্রান্তে বিপদ দেখে সতীর্থ রাফায়েল ভারানেকে ব্যাকপাস দিয়েছিলেন টনি ক্রুস। দুর্বল পাসটা ফরাসি ডিফেন্ডার ধরার আগেই ছোঁ মেরে লুফে নেন মস্কোর নিকোলা ভ্লাসিচ। বক্সের মধ্যে নাভাসকে তেমন কোনো সুযোগ না দিয়ে গোল করতে ক্রোয়াট মিডফিল্ডারের কোনো সমস্যা হয়নি। চ্যাম্পিয়নস লিগে গত ১১ বছরের মধ্যে এটাই রিয়ালের দ্রুততম গোল হজম।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, দুই মিনিটের মাথায় হজম করা এই গোল ম্যাচে বাকি সময়ের রিয়ালের আক্রমণভাগ শোধ করতে পারেনি। অথচ, করিম বেনজেমা, মার্কো এসেনসিও, দানি সেবায়োসদের মতো পরীক্ষিতদের নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন লোপেতেগি । সার্জিও রামোস ও গ্যারেথ বেলের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে দলটিকে। লুকা মদরিচকে শুরু থেকে না খেলানোর সিদ্ধান্তেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে লোপেতেগির ট্যাকটিস।

৫৮ মিনিটে কাসেমিরোর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মারিয়ানোকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন বর্ষসেরা এই মিডফিল্ডার। কিন্তু রিয়াল ফরোয়ার্ডের হেড গোলপোস্টে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মারিয়ানোর মতো পোড়া কপাল বেনজেমা আর কাসেমিরোরও। কাজের কাজ গোল না পেলেও দুজন গোলপোস্ট কাঁপিয়েছেন। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন মস্কোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক ইগর আকিনফিয়েভ। সোমবার রাশিয়ার জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দেওয়া আকিনফিয়েভ ৯৬ মিনিটে ভেবেছিলেন, বক্সের মধ্যে ভারানে হয়তো তাঁর সতীর্থকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। রেফারিকে প্রভাবিত করতে গিয়ে উল্টো নিজেই লাল কার্ড দেখেছেন।

গোল আদায় করতে সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকুই করেছে রিয়াল। ৭২ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৬টি শট নিয়েছে তাঁরা। ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর গোল করতে না পারার ম্যাচে এটাই রিয়ালের সর্বোচ্চসংখ্যক শট নেওয়ার নজির। আর কাল সহ সর্বশেষ তিন ম্যাচ বিবেচনায় নিলে মোট ৭৪টি শট নিয়েছে রিয়াল। কিন্তু গোল আদায় হয়নি। রিয়াল সর্বশেষ টানা তিন ম্যাচ গোলবঞ্চিত ছিল ২০০৭ সালে ফ্যাবিও ক্যাপেলোর অধীনে। এর দুই বছর পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটিতে যোগ দেন রোনালদো। বাকিটা ইতিহাস।

রিয়ালের খেরোখাতায় রোনালদোর লেখা ইতিহাস কতটা উঁচুতে সেটাই যেন মনে করিয়ে দিলেন নাভাস, ‘রোনালদো মানদণ্ডটা অনেক উঁচুতে স্থাপন করে রিয়াল ছেড়েছে। আপনি হাতের আঙুল দিয়ে কখনো সূর্যকে ঢেকে রাখতে পারবেন না।’

সেটি সম্ভব না বলেই রোনালদোর অভাবটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে রিয়াল। মৌসুমের শুরু থেকেই তাঁর অভাববোধ করা মানে সবে তো কলির সন্ধ্যে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here