রোহিঙ্গাদের পর অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের উচ্ছেদ করছে মিয়ানমার

0
164

রোহিঙ্গাদের পর এবার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের উচ্ছেদ করছে মিয়ানমার। রাখাইনে সংঘাতের কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীরা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যের দেড় হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী।

স্থানীয় সিভিল সোসাইটি গ্রুপগুলোকে উদ্ধৃত করে ইরাবতী এমন এক সময় এই পরিসংখ্যান জানালো, যখন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাখাইনে নতুন করে সেনাবাহিনীর ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ঘরহারা হওয়ার খবর জানা গেল। ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনের তিন শহরে নিজেদের বসতির কাছাকাছি এলাকায় গোলা হামলার পর ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে এসব মানুষেরা।

কিয়াউকতো, পন্নাগিউন ও বুথিয়াডং শহরে নভেম্বরের শেষ দিক থেকে লড়াই জোরদার হয়। সংঘাতের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিয়াউকতো গ্রাম। সেখানকার ১ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। কিয়াউকতো এর খামি জাতিগোষ্ঠীর ৪ শতাধিক মানুষ পিনিয়াওয়া গ্রাম ছেড়ে থালু চং, তং মিন কালার, কান সাউক ও এনগা সারিন কিনে এলাকার দিকে পালিয়ে যান।

গত বুধবার রয়টার্স সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তাদের এক নতুন অনুসন্ধানে জানিয়েছে, একসময়ের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলোতে এরইমধ্যে নাটকীয় রূপান্তর ঘটেছে। আগুন আর বুলডোজারে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত নিশ্চিহ্ন করার পর সেখানে শত শত নতুন ঘর-বাড়ি গড়ে তুলছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। আর তাতে পুনর্বাসিত হচ্ছে বৌদ্ধরা। রোহিঙ্গা গ্রামগুলো রূপান্তরিত হচ্ছে বৌদ্ধ অধ্যুষিত গ্রামে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here