রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্মনিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

0
160

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মনিয়ন্ত্রণে উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য আগে থেকেই কক্সবাজরের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারি মাঝি (নেতা) ও রোহিঙ্গা ইমামদের মাধ্যমে মোটিভেশন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ২৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঁচ বছরের নিচে রোহিঙ্গা শিশুর সংখ্যা এক লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন। এর মধ্যে ছেলে শিশুর সংখ্যা ৮৫ হাজার ৬৭৪ জন ও মেয়ে শিশুর সংখ্যা ৯০ হাজার ৫০৪ জন। তাছাড়া এসব ক্যাম্পে বর্তমানে গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বিশ্ব জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫৮ হাজার। আর সরকারী হিসেবে এর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৩৩৮ জন (বিভিন্ন মেয়াদের)। তবে প্রকৃত গর্ভবতী নারীর সংখ্যা নির্ধারণে শুমারি শুরু করেছে সরকার।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের আগ্রহ না থাকায় গড়ে প্রতিটি পরিবারে পাঁচ জন সন্তান রয়েছে। আগে যারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে তাদের গড়ে ৩টি করে সন্তান রয়েছে। তাছাড়া সরকারি হিসেবে বর্তমানে এসব রোহিঙ্গা ক্যম্পে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়। ফলে কক্সবাজরের বর্তমান প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সঙ্গে এসব শিশু যোগ হয়ে বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠি ও অর্থনীতির উপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মহার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু জন্মহার বেশি থাকায় সরকারের এই উদ্যোগ। রোহিঙ্গাদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে অনীহার কারণে সরকার তাদের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের মাঝি (নেতা) ও ইমামদের দিয়ে মোটিভেশনের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে এক লক্ষ দুই হাজার ৫৭০ জন গর্ভবতী নারীকে সরকারি সেবা দেয়া হয়েছে। এজন্য উখিয়া ও টেকনাফে সরকারের ৭টি মেডিক্যাল টিম, ৪টি এফডাব্লিউসি, একটি আরডি, ১০টি এনজিও ও কক্সবাজার সদর ক্লিনিক কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা নারীদের পিল, ইনজেকশন দেয়াসহ পুরুষের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিন এসব ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, এসময় রোহিঙ্গা কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় পরিচালক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে রোহিঙ্গা জন্মনিয়ন্ত্রণ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে আলাপ হয়েছে। তিনি জানান, এখনো এই কাজে স্থানীয় এনজিওর অংশ গ্রহণ অত্যন্ত কম। যা আরো বেশি বাড়ানো উচিৎ বলে মত দেন জিএম সালেহ উদ্দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here