রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
167

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জোলির সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টিতে ভূমিকা রখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আপনি সেলিব্রেটি বলিউডে বড় ধরনের ইভেন্ট তৈরি করেন। আর তাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসুন।

এ সময় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের সহায়তায় জর্জ হ্যারিসনের তহবিল সংগ্রহ ও জনমত তৈরির উদাহরণ টানেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো দেশ আমাদের সহায়তার অঙ্গীকার করেছে কিন্তু সেই ভাবে সাহায্য আসছে না। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে এ বছর রোহিঙ্গাদের রক্ষণাবেক্ষণে ৯৫২ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে। কিন্তু এখনো এর ৪০% আসেনি। আমাদের প্রতি সবাই কমবেশি সমব্যথী, তবে তাদের এই সমবেদনা যথেষ্ট নয়।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের পাঠানোর সময় মিয়ানমার কোন শর্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায় নি। এখন নেয়ার সময় তারা বিভিন্ন ধরনের শর্ত দিচ্ছে। আমি আমরা জোলিকে বলেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতেন তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সবচেয়ে বড় জেনোসাইড এখানে হত।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে ইতোমধ্যে ২৪ হাজার রোহিঙ্গা মারা গেছে, ১৮ হাজার ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১ লক্ষ ১৫ হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে ফেলেছে, ১ লক্ষ ২০ হাজার ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলেছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এদের বেশি দিন রাখার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। তবে আমাদের হৃদয় অনেক বড়।

মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা যদি অনেকদিন এখানে থাকে তাহলে চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে যা এই অঞ্চলের সবার জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। আর এটা সবার জন্যই অমঙ্গল বয়ে আনবে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি জানান, গত চার দশক ধরে মিয়ানমার এই সংকটের সৃষ্টি করে চলছে এখন তাদের শুধরানোর সময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here