লুকাকু, লটারোর তাণ্ডবে শাখতারকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে ইন্টার

0
75

উয়েফা ইউরোপা লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রোমেলো লুকাকু এবং লটারও মার্টিনেজের তাণ্ডবে শাখতার দোনেস্ককে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে ইন্টার মিলান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত একটায় জার্মানির মার্কার স্পায়াল অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। আর নতুন নিয়মে এক লেগে অনুষ্ঠিত হয় নকআউট পর্বের সবগুলো ম্যাচ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শাখতার দোনেস্ককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে সেভিয়ার সঙ্গী হয়েছে ইন্টার মিলান। আর ২০০৯/১০ মৌসুমে জোসে মোরিনহোর হাত ধরে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর এই প্রথম উয়েফার কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিল অ্যান্তোনিও কন্তের ইন্টার মিলান।

বিজ্ঞাপন
মহামারির কারণে স্থগিত হয় যাওয়ার আগে কেবল চারটি দলই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছিল। আর ঝুলে ছিল বাকিদের ইউরোপা লিগের ভাগ্য। বুধবার (৫ আগস্ট) শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ খেলে ১২টি ক্লাব। যার মধ্যে আছে ইন্টার মিলান-গেতাফে এবং সেভিয়া-রোমার প্রথম লেগের ম্যাচ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এই দলগুলো এই রাউন্ডে এক লেগের ম্যাচ খেলে। এই পর্বের আটটি ম্যাচের মাঝে ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় দলগুলোর নিজেদের মাঠে আর বাকি দু’টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় জার্মানিতে। সেখান থেকে ইন্টার মিলান, বায়ার লেভারকুজেন, ম্যানচেস্টার ইউনাটেড, এফসি কোপেনহেগেন সেভিয়া, উলভারহ্যাম্পটন, এফসি বাসেল এবং শাখতার দোনেস্ক উঠে আসে কোয়ার্টারে।

আর কোয়ার্টারে বায়ার লেভারকুজেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইন্টার মিলান জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। অন্যদিকে শাখতার দোনেস্ক এফসি বাসেলকে হারিয়ে উঠে আসে শেষ চারে। কোয়ার্টারে জয়ী ইন্টার এবং শাখতারের মধ্যকার ম্যাচটি বেশ জমজমাট হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু বেলজিয়ান তারকা স্ট্রাইকার রোমেলো লুকাকু এবং আর্জেন্টাইন তরুণ স্ট্রাইকার লটারো মার্টিনেজের তাণ্ডবে বেশ সহজেই জয় তুলে নেয় ইন্টার

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লটারো মার্টিনেজ ইন্টারের হয়ে গোলের খাতা খোলেন ম্যাচের মাত্র ১৯ মিনিট গড়াতেই। শাখতার গোলরক্ষকের ভুলে হল পেয়ে যান নিকোলো বারেল্লা, আর ডি বক্সের ভেতরে থাকা মার্টিনেজের উদ্দেশ্যে হাওয়ায় বল উড়িয়ে মারেন তিনি। দুর্দান্ত ক্রসকে গোলে পরিণত করতে লাফিয়ে উঠে বল জালে পাঠিয়ে দেন মার্টিনেজ। এরপর প্রথমার্ধে আরও বেশকিছু সুযোগ তৈরি করলেও আর গোলের দেখা পায়নি ইন্টার। অন্যদিকে গোল শোধও করতে পারেনি শাখতার। তাই তো প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট শেষে ১-০’তে এগিয়ে থাকে ইন্টার।

বিরতি থেকে ফিরে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্টার। তাদের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ম্যাচের ৬২ মিনিটে। শাখতারের ফুলব্যাক মায়াকোলা ম্যাটভিয়েঙ্কোর ক্রস থেকে হেড দেন মোরেয়াস। তবে বল চলে যায় ইন্টার গোলরক্ষক সামির হ্যান্ডানোভিচের কাছেই। আর সহজ একটি সেভ দেন তিনি। এর ঠিক মিনিট দুই পরে শুরু ইন্টারের তাণ্ডব। মার্সেলোন ব্রোজোভিচের কর্নার থেকে ডানিলো ডি’অ্যামব্রোসিয়া গোল করে ইন্টারের ব্যবধানে ২-০ করেন।

এরপর ৭৪ মিনিটে রোমেলো লুকাকুর পাস থেকে দলের তৃতীয় এবং নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লটারো মার্টিনেজ। এরপর ৭৮ মিনিটে যেন লুকাকুর ঋণ শোধ করলেন মার্টিনেজ। লুকাকুর উদ্দেশ্যে ডি বক্সে বাড়িয়ে দেন বল। আর ডি বক্সের ভেতরে বল পেয়ে গোল করতে একদমই ভুল করেননি লুকাকু। ম্যাচের ১২ মিনিট বাকি থাকতেই ৪-০ গোলে এগিয়ে ইন্টার। আর সেই সঙ্গে তাদের ফাইনালও নিশ্চিত হয়ে গেছে।

তবে ফাইনাল নিশ্চিত হলেও গোলের ক্ষুধা কমেনি ইন্টারের। এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে টানা ১০টি ইউরোপা লিগের ম্যাচে গোল করলেন লুকাকু। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ডি ভ্রিজের অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লুকাকু। আর ইন্টারকে এনে দেন ৫-০ গোলের বড় জয়। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয় ইউরোপা লিগের ফাইনালও। ইউরোপা লিগের ফাইনালেই আগামী ২২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত একটায় সেভিয়ার মুখোমুখি হবে ইন্টার মিলান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here